গত ৫ আগস্ট আবুল কালামের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪) ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরদিন (৬ আগস্ট) গ্রামের বাড়িতে এনে তার লাশ দাফন হয়।
আবুল কালামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামে। এক সময় এলাকায় রিকশা চালালেও এখন রোগে-শোকে কাজ করতে পারেন না।
.png)
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালামের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে সোহাগ দ্বিতীয়। চার বছর আগে সোহাগ সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেন তিনি। এরপর জমি, ঘরের গরু আর মহাজনি সুদে ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা জোগাড় করে দালালকে দেন। কিন্তু সব টাকা খোয়া যায়। এরপর সুদের টাকার চাপে ছোট ভাই শুভকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালান সোহাগ মিয়া। ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ নেন দুই ভাই। থাকতেন বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকায়। যা আয় করতেন মাসে মাসে সেখান থেকে কিছু টাকা পাঠাতেন বাড়িতে। সেই টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করছিলেন বাবা।
৫ আগস্ট সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কারখানায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হন দুই ভাই। ঘটনাস্থলেই সোহাগ মিয়া মারা যান। শুভ মিয়া এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরদিন সোহাগের লাশ এলাকায় নিয়ে দাফন করা হয়। শুভ মিয়ার চিকিৎসা নিয়েও চিন্তিত পরিবার।
আবুল কালাম বলেন, ‘একটা ভাঙা ঘরে থাকি। বেড়া নাই, টিন নাই। মেঘ আইলে (বৃষ্টি হলে) পানি পড়ে। একবেলা খাইলে, দুইবেলা উপাস যায়। ছেলেটা মাসে মাসে কিছু টেখা দিত। এই টেখা দিয়া চলতাম। অখন তো হে নাই, আমরারে কে দেখব?’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগের পরিবার খুবই দরিদ্র। যে গাড়ি লাশ নিয়ে এসেছিল, সেটার ভাড়ার টাকাও গ্রামের লোকজন দিয়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা আইনজীবী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, সোহাগ মিয়া মারা যাওয়ায় দরিদ্র পরিবারটি আরো অসহায় হয়ে পড়ল। এখন আহত শুভ মিয়ার চিকিৎসা ও পরিবারটি কীভাবে চলবে, সেটাই চিন্তার বিষয়। তাদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত।