তবুও ময়মনসিংহ শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা। প্রতি কেজি পিরানহার দাম রাখা হচ্ছে ২০০ টাকা। মাছটি সম্পর্কে ক্রেতারা না বুঝেই রূপচাঁদা মনে করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ পিরানহা ক্রেতাদের কাছে অবাধে বিক্রি করতে পারায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন অসাধু চাষিরা।
সরেজমিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রির জন্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে অনেকগুলো পিরানহা নিয়ে বসেছেন কয়েকজন বিক্রেতা। পিরানহাকে রুপচাঁদা বলে বিক্রি করা হচ্ছে। আসল রুপচাঁদার চেয়ে পিরানহা কম দামে বিক্রি করায় অনেক ক্রেতা বেশি করে কিনে নিচ্ছেন।
.png)
জাহিদুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, এই মাছ দেখতে হুবহু রুপচাঁদার মতো। এর দামও আসল রুপচাঁদারের চেয়ে কম। ফলে সবাই কিনেন৷ তিনি বলেন, আমি জানি এটি আসল রুপচাঁদা না। তবুও সবাই কিনেন বলে আমিও কিনি৷ তবে প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি হলেও অভিযান চালানো হয়না। ফলে নিয়মিত কেনাবেচা চলছেই৷
আফসানা খাতুন নামে আরেকজন বলেন, কয়েকবার এই মাছটি রুপচাঁদা মনে করে কিনেছি। কিন্তু পরে জানতে পারি এটি পিরানহা মাছ। বিক্রেতারা সবসময় আসল রুপচাঁদা বলে বিক্রি করেন এই মাছ। ফলে অনেকে না চিনে এই মাছটি ক্রয় করেন। এটি যে নিষিদ্ধ মাছ তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না।
পিরানহা বিক্রি প্রসঙ্গে সোহরাব আলী নামে একজন বিক্রেতা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফিসারিতে চাষ করা হয় পিরানহা মাছ। বাজারে এটির বিক্রি বন্ধ করতে হলে যারা চাষ করছে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে এই মাছের উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব না।
স্থানীয় মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, পিরানহা মাছ দেখতে অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো। তবে এর শরীরের রং কিছুটা লালচে এবং ধূসর। এই মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর ছোট শক্তিশালী চোয়াল। এর দুই পাটিতে ত্রিশূলের মতো দাঁত এতোটাই ধারালো যে শিকারের দেহ এক নিমেষে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। পিরানহা মাছের তীক্ষ্ণ দাঁত দেখা যাবে। পিরানহা মাছের কানকো থাকে। রূপচাঁদা মাছের কানকো মেশানো থাকে। পিরানহা মাছের লেজের কাছে ছোট আরেকটি পাখনা বা এডিপোজ পাখনা থাকে। রূপচাঁদা মাছের এমন কোন পাখনা নেই। গায়ের রং কিছুটা লালচে ও ধুসর বর্ণের হয়। রূপচাঁদার মতো চকচকে থাকে না। পিরানহা মূলত স্বাদু পানির মাছ। রূপচাঁদা সামুদ্রিক মাছ। জ্যান্ত পিরানহা মাছের স্বভাব রাক্ষুসে প্রকৃতির। রূপচাঁদা অনেক নিরীহ মাছ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা বলেন, পিরানহা মাছ যদি কোনো অবরুদ্ধ জায়গায় চাষ করা হয় এবং সেখানে যদি কোন মানুষ পড়ে যায় তাহলে পিরানহা ঝাঁক বেঁধে সেই জ্যান্ত ব্যক্তিকে এক নিমিষে খেয়ে সাবাড় করে ফেলতে পারবে। পিরানহা জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ।
তিনি বলেন, সরকার ও মৎস্য অধিদফতর পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অন্যান্য মাছের উৎপাদন বাড়াতে রাক্ষুসে পিরানহার উৎপাদন বন্ধ করতে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। তবুও অনেকে গোপনে চাষ করছে এই মাছ।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, শম্ভুগঞ্জ বাজারসহ অন্য বাজারগুলোতেও অভিযান চালানো হবে। কোথাও নিষিদ্ধ মাছ পাওয়া গেলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।