বর্ষা মৌসুমে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলের মানুষের বাহন হিসেবে নৌকার ব্যবহার আবহামান কালের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। বর্ষাকালে নিচু এলাকার মানুষের চলাচলে একমাত্র বাহন নৌকা ও মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার কাজেও নৌকার ব্যবহার করেন। নিম্নাঞ্চলের মানুষের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌকা। দিনরাত হাতুড়ি-বাটালের টুংটাং শব্দে মুখর বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া বাজার। এ বাজারে অনেকেই নৌকা তৈরির কাজ করে তাদের সংসার চলে।
নৌকা তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষাকাল আসলেই আমরা নৌকা তৈরি করি আর বিক্রি করি। নৌকার তৈরি ও বিক্রি আয়ের উৎসও ভালো।
.png)
নৌকা তৈরির কারিগর হাফিজুল শেখ বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমরা ৩০ খানা নৌকা গড়াই। দৈনন্দিন যে মুজুরি পাই তাতে আমাদের পরিবার সুন্দরভাবে চলতে পারে। বর্ষা মৌসুমেই নৌকা তৈরির কাজে দিনরাত ব্যস্ত থাকি।
নৌকা তৈরির কারিগর রেজাউল ইসলাম বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে আমি নৌকা তৈরির কাজ করি। প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলেই আমরা নৌকার কাজ করি। আমরা ৭-৮ জনে মিলে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ খান নৌকা বানাই। নৌকা তৈরি করে আমাদের সংসার ভালোই চলে।
তিনি জানান, আকার ভেদে ছোট ডিঙি নৌকা তৈরির মজুরি হিসেবে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা নিই। কাঠসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নৌকার মালিক দেন। কাঠের গুণগত মান ও আকৃতি বুঝে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা করে প্রতিটি নৌকার খরচ পড়ছে। কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে খরচ বেশি লাগছে।
নৌকা কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায়ই মানুষ বর্ষাকালে নৌকা ব্যবহার করেন। সামান্য বর্ষাতেই ছোট ছোট রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম একটু বেশি।
নৌকার এক ব্যাপারী বলেন, আমি ১০ থেকে ১৫ বছর এই নৌকার ব্যবসা করি। বর্তমানে এখান থেকে নৌকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিক্রি করি। এই নৌকা বিক্রি করে আমি অনেক ভালো আছি।
নালুয়া বাজারে নৌকার ব্যবসায়ী রমজান শেখ বলেন, আমরা অর্ডার নিয়ে নৌকা তৈরি করছি। আমার কারখানায় কারিগরসহ ৮-১০ জন কাজ করে। সিরিজ, কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিভাগ নৌকা তৈরি করি। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাটাসহ বিভিন্ন উপকরণ লাগে। বেশিভাগ ছোট ডিঙি নৌকা যার অধিকাংশই মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার মাছের ঘেরের কাজেও নৌকা নেয়।
তিনি আরো বলেন, দূর-দূরান্তের হাট বাজারের ব্যাপারিরা চিতলমারী নালুয়া বাজার থেকে পাইকারি দামে নৌকা কিনে নিয়ে যান। ৮ থেকে ১০ হাত দৈর্ঘ্যের নৌকা ৪-৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। নৌকা বড় হলে দামও বাড়ে। সেগুলোর মূল্য চুক্তি মোতাবেক ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করে দেওয়া হয়। এখান থেকে পাইকারি এবং খুচরা হিসেবে নৌকাগুলো বিক্রি করা হয়