ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাটানো হলো না সুখের জীবন, বিয়ের ৪ মাসেই কফিনে ফিরল নববধূ মিলি

মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৯, ১ আগস্ট ২০২৪
কাটানো হলো না সুখের জীবন, বিয়ের ৪ মাসেই কফিনে ফিরল নববধূ মিলি
বধূ সাজে মিলুফা ফেরদৌসি মিলি ও স্বামী তৈফিক খাঁন

গৃহবধূ মিলুফা ফেরদৌসি মিলি (৩৬)। তার পৈত্তিক নিবাস রংপুর জেলার আলমনগরে। স্বামী তৈফিক খাঁন (৩৭)। পেশায় মেরিন প্রকৌশলী। বাড়ি ঢাকার কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়ায়। ম্যারেজ মিডিয়া সাইটে তাদের প্রথম পরিচয়। পরে উভয়ের পরিবারের অজান্তে প্রেম-প্রণয় ঘটে তাদের। এ জন্য দাম্পত্য জীবন সুখে কাটাতে নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে দূরের শহর মোংলায় সংসার পেতেছিলেন এ দম্পত্তি। বিয়ে ও সংসার জীবনের মাত্র চার মাসের মাথায় লাশ হয়ে কফিনে বাবার বাড়ি ফিরে গেলেন গৃহবধূ মিলুফা ফেরদৌসি মিলি। তাকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৯ জুলাই সোমবার দিনগত মধ্যরাতে মোংলার শিকারির মোড় সংলগ্ন হাজ্বী বাহার উদ্দিন সড়কে। এই এলাকায় জনৈক তৈয়েবুর রহমান কচির ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন তৈফিক-মিলি দম্পত্তি। ঘটনার পর ৩০ জুলাই সকালে নিহতের স্বামী প্রকৌশলী তৈফিক খাঁন নিজেই থানায় পৌঁছে স্ত্রীর আত্মহত্যার খবর দেন পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিলির মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক সুরতহালে পুলিশের সন্দেহ হলে আটক হন স্বামী তৈফিক। এ ঘটনার খবর পেয়ে নিহত মিলির বাবা ফেরদৌস আলম মুকুলসহ নিকট আত্মীয়স্বজন মঙ্গলবার রাতে মোংলায় পৌঁছান।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্ত্রীর আত্মহত্যার প্রচারণা চালায় স্বামী তৈফিক।

Advertisement

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই ইফতিয়ার হাসান লিমন বাদী হয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে মোংলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, তার বোন মিলি অন্যত্র বিবাহ ও সংসার করতেন। ম্যারেজ মিডিয়া সাইটে পরিচয়ের পর তৈফিক তাকে নানা প্রলোভন ও ফুঁসলিয়ে গত ৩০ মার্চ খুলনায় নিয়ে যান। এদিন আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বিয়ে করেন তারা।

পরে মোংলা বন্দর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তৈফিক তার আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন এবং পরবর্তীতে জানাজানি হলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এভাবে তাদের সংসার জীবন পার হয় টানা চার মাস। মৃত্যুর আগের দিন ২৯ জুলাই বিকেলে মিলি রংপুরে তার মাকে ফোন করে স্বামীর মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের কথা জানান। এমনকি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মাকে অবহিত করেছিলেন মিলি। এমন শঙ্কার মধ্যে দিন গড়িয়ে রাত পোহালে পরিবারে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। 

গতকাল বুধবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে বিকেলে লাশের কফিন নিয়ে রংপুরের আলম নগরের পিরপুর গ্রামে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। অপরদিকে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তৈফিক খানকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার জানান, নিহতের দুই হাত, বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় কাঁটা-ছেড়ার ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার স্বামীর শরীরেও রয়েছে কামড়ের ক্ষত। তাই গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী জড়িত থাকার প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!