ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বৃষ্টিতে সেই চিরচেনা রূপে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ১ আগস্ট ২০২৪
বৃষ্টিতে সেই চিরচেনা রূপে চট্টগ্রাম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দেখা দিয়েছে মানুষের দুর্ভোগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এর আগে সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১১২ মিলিমিটার।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ভারী বৃষ্টির ফলে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও।

Advertisement

সকাল থেকে দেখা গেছে, নগরের জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, কাপাসগোলা, শুলকবহর, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ কয়েকটি এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বাড়িঘর-দোকানপাট ডুবে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেখা গেছে যাত্রী দুর্ভোগও।

নগরের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির ফলে চারদিকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে কোথাও যেতে পারছি না। চট্টগ্রামবাসীর প্রধান একটি সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলেই সবদিকে ডুবে যায়।

চকবাজার এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, নানা কারণে চট্টগ্রামে বারবার জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরী পানিতে ডুবে থাকলে সবকিছু যেন থমকে যায়।  

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, বৃহস্পতিবার জোয়ার শুরু হয় ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে। ভাটা শুরু হয় ১০টা ৫১ মিনিটে। বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে আবার জোয়ার আসবে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ১৪৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্যমতে, নগরের ২৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ৫৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে চার হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে আকবরশাহ থানাধীন ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিলসংলগ্ন পাহাড়গুলোতে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পরিবারগুলো সেখানে বসবাস করছে।

এরমধ্যে নগরের লালখান বাজার টাংকির পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা বসতি ছেড়ে কিছু বাসিন্দা লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!