বন্দর সূত্র জানায়, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, সাধারণ ছুটি এবং কারফিউ মিলে টানা পাঁচদিন বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম। ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার খ্যাত এ বন্দরে তৈরি হয় কনটেইনার জট। বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউএস। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার থাকে। কিন্তু পাঁচদিনের ডেলিভারি বন্ধে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪২ হাজারে।
ধারণক্ষমতা বেশি থাকায় কনটেইনার রাখতে সমস্যা না হলেও কনটেইনার মুভারসহ হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট পরিচালনা করতে পেতে হয় বেগ। যার ফলে কমে যায় বন্দরের কাজের গতি।
.png)
রোববার বন্দরের ইয়ার্ডে ৪১ হাজার ১৮৩ টিইইউএস কনটেইনার ছিল। যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ১০ হাজার বেশি। পরদিন সোমবার বিপুল সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং ডেলিভারি হয়। ফলে একদিনের ব্যবধানে কনটেইনার সংখ্যা নেমে আসে ৩৮ হাজার ৬০২ টিইইউএসে।
জানা গেছে, সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে তিন হাজার ৩৫১ টিইইউএস কনটেইনার। এরমধ্যে দুই হাজার ৪৬৩ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে গেছেন আমদানিকারক। বাকি ৮৮৮ টিইইউএস কনটেইনার পাঠানো হয়েছে আইসিডিতে।
একইদিন বন্দরে বার্থিং-এ থাকা বিভিন্ন জাহাজ থেকে নামানো হয়েছে তিন হাজার ৭৫ টিইইউএস কনটেইনার। জাহাজে তোলা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩১৪ টিইইউএস রফতানি পণ্য। এরমধ্যে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পাঠানো হয়েছে দুই হাজার ৬০৫ টিইইউএস এবং আইসিডি থেকে পাঠানো হয়েছে দুই হাজার ৭০৯ টিইইউএস। সব মিলিয়ে সোমবার বন্দরে হ্যান্ডলিং হয়েছে আট হাজার ৩৮৯ টিইইউএস কনটেনার।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, একদিনেই বন্দরের কনটেইনার জট নেমে এসেছে সহনীয় পর্যায়ে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারির এ ধারা অব্যাহত থাকলে যেমন কনটেইনার জট সামলে নেয়া সম্ভব হবে, তেমনি বন্দরে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, কনটেইনার জট কমে সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। আশাকরি চলতি সপ্তাহের শেষদিকে এ সংখ্যা আরো কমে যাবে।