ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিপর্যয়ের মুখে সিলেটের পর্যটনখাত

তুহিন আহমদ, সিলেট
প্রকাশিত: ১১:৩৫, ২৬ জুলাই ২০২৪
বিপর্যয়ের মুখে সিলেটের পর্যটনখাত
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র

চলতি মৌসুমের শুরুতেই সিলেটের পর্যটনখাত বড় ধাক্কার মুখে পড়ে বন্যার কারণে। তিন দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আবারো থমকে যায় সিলেটের পর্যটনখাত। টানা কয়েকদফা ধাক্কার কারণে সিলেটের পর্যটনখাতে ক্ষতি দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি টাকার ওপরে এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এমনটা চলতে থাকলে সিলেটর পর্যটনখাত মুখ থুবড়ে পড়বে। এমনকি অস্তিত্ব সংকটেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্র জলকেন্দ্রিক হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে এর কদর বেশি বাড়ে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে চলতি মৌসুমের শুরুতইে বন্যার কারণে বড় ধাক্কার মুখে পড়ে সিলেটের পর্যটন। 

Advertisement

তিন দফা বন্যার পর সব গুছিয়ে ওঠার আগেই দেশের সহিংস পরিস্থিতি আর কারফিউয়ের কারণে বিরাট বিপর্যয়ে পড়ে সিলেটের পর্যটন। সিলেটে গত ১০ জুলাইয়ের পর বেশিরভাগ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে তেমন বুকিং পড়েনি। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমে আসে সুনসান নীরবতা। সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বর্ষায় পানির কারণে রাতারগুলের সৌন্দর্য আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়। 

সরেজমিন সিলেটের রাতারগুলে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নিস্তব্ধতা ছেঁয়ে আছে। ঘাটে নৌকা থাকলেও বেশিরভাগই নৌকায় মাঝি নেই। সেখানে রিসোর্ট বা রেঁস্তোরাতেও নেই পর্যটক। সেখানের বেশিরভাগই গল্প, আড্ডায় সময় পার করছেন। 

 সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র

রাতারগুলের পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটে বর্ষার মৌসুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এজন্য আগে থেকেই অনেক পরিকল্পনা করে রাখা হয়। তবে এইবার সব পরিকল্পনায় ভাটা পড়ে গেছে। এই মৌসুমে প্রতি সপ্তাহেই লাখের ওপর পর্যটকদের আনাগোনা হয়ে থাকে রাতারগুলে। কিন্তু এইবার বন্যা আর দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটকশূণ্য হয়ে রয়েছে রাতারগুল। 

রাতারগুলের পর্যটন ব্যবসায়ী সোহেল স্কোয়ারের পরিচালক সোহেল আহমদ বলেন, রাতারগুলে নৌকা ব্যবসায়ী, রেস্তোরা, রিসোর্টে এবার কোনো পর্যটক নেই। শুরুতে তিন দফা বন্যার কারণে সিলেট পর্যটকশূণ্য ছিল। সেই রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে পর্যটকশূণ্য হয়ে পড়েছে সিলেট। যার কারণে আমরাও কোনো পর্যটক পাচ্ছি না। 

পর্যটক না আসার কারণে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। এখানে যারাই আছেন সকলেই পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ী সকলেই এটার উপরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। পর্যটকশূণ্য হওয়ার কারণে সকলেই আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এক মাসে ৯০ শতাংশ ব্যবসাই কমে গেছে। এতে সকলেরই ক্ষতি হয়েছে প্রায় কোটি টাকার মত।  

হোটেল মোটেল ও রেস্ট হাউজ অনার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া লিপন বলেন, রমজানের পর থেকেই ব্যবসায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। তখন বেশি তাপমাত্রার কারণে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে অনেকেই বের হননি। হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, চলতি মৌসুমে পর্যটনখাতে সিলেট জেলার ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকার ওপরে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!