ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরিচয় ফাঁসের ভয়ে হত্যা, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামিরা 

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০০, ১৪ জুলাই ২০২৪
পরিচয় ফাঁসের ভয়ে হত্যা, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামিরা 
গ্রেফতারকৃতরা। ইনসেটে মাদরাসাছাত্র সানজিদুল ইসলাম তামিম

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অপহরণের পর মাদরাসাছাত্র সানজিদুল ইসলাম তামিমকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করেছিলেন তারা। তবে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না তাদের। কিন্তু তামিমের পূর্বপরিচিত ছিলেন আসামিরা। ফলে ধরা পড়ার ভয়ে তামিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। 

শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তরায় র‍্যাব-১-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাবের সহকারী পরিচালক (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) মাহফুজুর রহমান। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহের মুক্তগাছা উপজেলার পাউরিতলা গ্রামের মৃত মজনু মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া (২০) এবং তার সহযোগী ফুলপুর উপজেলার কুশকান্দা গ্রামের ইস্কান্দার মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২২)। 

Advertisement

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার বিকেলে মুক্তাগাছার কদুরবাড়ী বাজার থেকে হাসানকে এবং সন্ধ্যায় ফুলপুরের কুশকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগরকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত সানজিদুল ইসলাম তামিম ফুলপুর উপজেলার মাটিজাপুর গ্রামের নাজমুল হোসেনের ছেলে। নাজমুল কোনাবাড়ী থানার আমবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তামিম ওই এলাকার আইনুদ্দিন দাখিল মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। 

র‌্যাব জানায়, গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় তামিম। বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও না পেয়ে কোনাবাড়ী থানায় জিডি করেন তার বাবা। ৮ জুলাই সকালে বাবার মোবাইলে কল করে তামিমকে পেতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, টাকা দিতে ওইদিন ময়মনসিংহের বাইপাস এলাকায় যান স্বজনরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে অপহরণকারীদের না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তারা। 

১০ জুলাই দুপুরে কোনাবাড়ীর আমবাগ মধ্যপাড়ার কলাবাগানের ভেতরে এক শিশুর বিকৃত লাশ দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। সেটি তামিমের লাশ বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেন তামিমের বাবা। মামলার পর পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব। একপর্যায়ে আসামিদের শনাক্ত করে শুক্রবার বিকালে হাসান ও সন্ধ্যায় সাগরকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা র‍্যাবকে জানায় তামিমের বাবার ববিনের কাটার গুদামে কাজ করতো হাসান ও সাগর। পাশাপাশি অনেকের কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়েছিল। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তাদের পূর্বপরিচিত নাজমুলের ছেলে তামিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ জুলাই সন্ধ্যায় বাবার কর্মস্থলের সামনে থেকে হাতি দেখানোর কথা বলে তামিমকে অপহরণ করে হাসানের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। 

সেখানে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে বাথরুমের ভেতর আটকে রাখেন। হাসান ও সাগর শিশু তামিমের বাবার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি বাবাকে বলে দিতে পারে এই ভয়ে ওইদিন রাত ৮টায় বাথরুমের ভেতরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তারা। রাত ১১টার দিকে লাশ আমবাগ মধ্যপাড়ার কলাবাগানের ভেতরে ফেলে দেন। পরদিন বাবার কাছে কল করে হাসান জানান তামিম তাদের হেফাজতে, ১০ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেবেন। পরে পুলিশের সহায়তায় স্বজনরা টাকা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের বাইপাস এলাকায় যান। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান হাসান ও সাগর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!