ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পলিথিনে খুলনায় বাড়ছে জলাবদ্ধতা

হুমকিতে পরিবেশ
শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা
প্রকাশিত: ১২:৩২, ১৪ জুলাই ২০২৪
পলিথিনে খুলনায় বাড়ছে জলাবদ্ধতা
পলিথিনের কারণে জলাবদ্ধতা

এক পশলা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা। শহরের প্রায় সব রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতাকে আরো জটিল করে তোলে পলিথিন। বৃষ্টি হলেই জমে থাকা পানি সঙ্গে যুক্ত হয় পলিথিন আর আবর্জনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অভিজাত রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে ফুটপাতের প্রায় সব দোকানের পণ্য বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। সহজলভ্য ও ব্যবহারে সুবিধা থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতির দিক বিবেচনা না করে পলিথিন ব্যাগ দেদারছে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন আকারের এই পলিথিন ঢাকা থেকে কুরিয়ার ও গাড়িযোগে খুলনায় আসে।

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ফলে দেদারছে হচ্ছে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার। যে কারণে পলিথিন ব্যাগে সয়লাব গোটা খুলনার সব এলাকা। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগৃহীত বর্জ্যের বড় অংশই পলিথিন ব্যাগ। নগরবাসীর ব্যবহৃত এসব পলিথিনের বড় একটা অংশ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় সিটি কর্পোরেশন। ফলে এসব ব্যাগ যত্রতত্র পড়ে থেকে দূষণ ঘটাচ্ছে মাটিতে। এ ছাড়া নগরবাসীর ব্যবহৃত পলিথিনের চূড়ান্ত স্থান খাল ও নদীতে হওয়ায় মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে পানিতে। এ ছাড়া নগরীর অধিকাংশ ড্রেনে পলিথিনের স্তূপ জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

Advertisement

খুলনা নগরীতে ড্রেনে পলিথিনের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ড্রেনের মাধ্যমে এই পলিথিন নদীতে গিয়ে পড়ছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব খাওয়ার কারণে মানুষের শরীরে ঢুকছে ক্যান্সারসহ নানা রোগের জীবাণু। একসময় শিল্পনগরী খুলনায় পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ছিল। তবে পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ায় সবাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন পলিথিনের ওপর।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পলিথিন ও প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো কঠোর হতে হবে। পলিথিন নিষিদ্ধ করে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

মুদি দোকানি আব্দুল হালিম বলেন, পলিথিন ছাড়া কাস্টমারকে কীভাবে মালামাল দেব? সরকার যদি এটার ব্যবহার বন্ধ করতে পারে, তাহলে আমরাও ব্যবহার করব না।

ক্রেতা সুমন বলেন, বিকল্প ব্যবহারের জিনিস পেলে পলিথিন কেউ ব্যবহার করবে না। এতে পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। সঙ্গে নদী-খালের জীব বৈচিত্র্য বেঁচে যাবে।

পরিবেশ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জরিমানা করে ও কারাদণ্ড দেয়। তবুও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হয় না। আইনের কঠোর প্রয়োগ না করায় অভিযানের কয়েকদিন পরই আবারো স্বাভাবিকভাবেই চলে উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত অভিযান না থাকায় পলিথিনের বিক্রি ও ব্যবহার আগের তুলনায় ভয়াবহ ভাবে বেড়ে গেছে।

পলিথিনের কারণে জলাবদ্ধতা

জানা যায়, নগরীর দৌলতপুর, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার, গল্লামারী, চিত্রালি বাজার, নিউ মার্কেটসহ খুলনার সবকটি বাজারে বিক্রি হয় নিষিদ্ধ পলিথিন। এসব পলিথিন পাইকারি দরে কিনে আনা হয় বড় বাজার থেকে। খুলনার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় পলিথিন পাঠানো হয় বড় বাজার থেকেই। বেশ কয়েকবার পরিবেশ অধিদফতরের সাঁড়াশি অভিযানে এই পলিথিন বাজারজাতকারীদের আইনের আওতায় আনলেও বর্তমানে থেমে নেই রমরমা বাণিজ্য।

বড় বাজারের এক পলিথিন ব্যবসায়ী বলেন, পলিথিন শুধু খুলনায় বিক্রি হয় না। এর ব্যবহার ঢাকাসহ সারাদেশেই হয়। সরকারের উচিত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে কিছু তৈরি করা।

পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, খুলনায় নগরীর লবণচরা ও রূপসাসহ কয়েকটি স্থানে পুরাতন পলিথিন পুড়িয়ে নতুন বানানো হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, পুরোনো পলিথিন নতুন রূপে তৈরির কারখানা কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। পলিথিন পোড়ানো কারখানার তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

পলিথিন নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদফতরকে সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) খুলনার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।

তিনি বলেন, পলিথিনিরে ভয়াবহ খুলনার বাজার থেকে যা কিনবেন তাতেই পলিথিনের ব্যাগে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে গিয়েছি। স্মারকলিপি দিয়েছি। তাদের বক্তব্য জনবল ও পরিবহনের অভাব। নিজস্ব ম্যাজিট্রেট নেই। আরো রয়েছে বাজেটের অভাব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!