ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভারপ্রাপ্তে ভারাক্রান্ত ৪১০ স্কুল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ১৩ জুলাই ২০২৪
ভারপ্রাপ্তে ভারাক্রান্ত ৪১০ স্কুল
চলছে পাঠদান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ৪১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। ওইসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। প্রশাসনিক কাজেও বাড়ছে জটিলতা। সব মিলিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। শিগগিরই ওইসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি শিক্ষকদের। জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, সরকারিভাবে নিয়োগ কার্যক্রম না হওয়ায় এই শিক্ষক স্বল্পতা। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৪১০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের বেশির ভাগে ৪-৫জন করে শিক্ষক রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে ওইসব বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। 

একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় অপর তিনজন সহকারী শিক্ষক দিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটিতে থাকলে সৃষ্টি হয় সমস্যা। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় তাদের মানতে চান না অন্য সহকারী শিক্ষকরা। অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পড়ালেখা।

Advertisement

শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষিকা

কালিহাতী উপজেলার কামান্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফ হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ক্লাসগুলো নিতে। কিন্তু অনেক সময় চাপ বেশি পড়ে যায়। তখন দেখা যায় এক ক্লাস ফাঁকা থাকে তখন ছাত্র-ছাত্রীরা বাইরে ঘোরাফেরা করে। প্রধান শিক্ষক থাকলে পড়াশুনার মান আরো উন্নত হবে।

আরেক শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমরা ভারপ্রাপ্ত স্যারের প্রায় সব ক্লাস নেই। কিন্তু বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক আছি সেক্ষেত্রে স্যার বাইরে চলে গেলে পরে তিনজন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো কষ্ট হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা বলছে, শিক্ষক সঠিক সময়ে না থাকায় ঠিকমত ক্লাস হয় না। আমরা নিয়মিত ক্লাস চাই এবং শিক্ষক চাই। একেক সময় একেক স্যার এসে ক্লাস নেন। 

খিদির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম  বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। মাসে অন্তত ১০ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে অথবা কোনো সভায় যোগ দিতে আমাকে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এছাড়া উপবৃত্তির কাজ চলতাছে এই সময় দুজন শিক্ষক সব সময় থাকতেই হয়। দেখা যায়, এই সময়ও লেখাপড়ায় সমস্যা হয় বাচ্চাদের। তখন তিনজন শিক্ষক দিয়েই প্রাক্-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো যায় না। একইসঙ্গে দাফতরিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে ৪১০টি বিদ্যালয়। নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, তাদের একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ হলেই আশা করছি এই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। এছাড়াও জেলায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে ৬৮ পদে ১৬ পদ শূন্য, সহকারী শিক্ষক ৯০৯৮ পদে ৭৩৮ পদ শূন্য রয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!