ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মা সেজে অপহরণ করে ১৪ বছরের কিশোরী, যেভাবে পড়ল ধরা 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৩১, ১৩ জুলাই ২০২৪
মা সেজে অপহরণ করে ১৪ বছরের কিশোরী, যেভাবে পড়ল ধরা 
গ্রেফতারকৃত অপহরণকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে লেগুনায় তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক কিশোরী। তখন মেয়েটি উচ্চ স্বরে কান্না করছিল। লেগুনার অন্য যাত্রীরা শিশুটির কান্নার কারণ জানতে চাইলে ওই কিশোরী নিজেকে শিশুটির মা বলে দাবি করেন। এতে গাড়িতে থাকা রিয়াজ কবির নামে এক যাত্রীর বিষয়টি সন্দেহ হয়। সন্দেহ থেকে লেগুনাসহ ওই শিশু ও কিশোরীসহ নিয়ে যাওয়া হয় জেলার হাটহাজারী থানায়। সেখানে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। আসলে সেই কিশোরী শিশুটির মা নন। মূলত শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে নগরীর অক্সিজেন-২ নম্বর গেট সড়কের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরী। 

পুলিশ জানায়, ছয় বছর বয়সী শিশুকে অপহরণের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) লেগুনায় করে তাকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল ১৪ বছরের এক কিশোরী। তবে শিশুটি অনবরত কান্না করতে থাকায় লেগুনার যাত্রীদের সন্দেহ হয়। এরপর লেগুনাটি থানায় নিয়ে গেলে নেশার টাকা জোগাড় করতে শিশুটিকে অপহরণের বিষয়টি সামনে আসে।

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে শিশুটিকে জেলার হাটহাজারী থানার এগারোমাইল এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। ওই সময় শিশুটি বাড়ির সামনে খেলছিল। সেখান থেকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে অপহরণ করে ১৪ বছরের ওই কিশোরী। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অন্যদিকে, অপহরণের পর শিশুটিকে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ১৬ বছর বয়সী অপর এক কিশোরীর বাসায় রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে লেগুনায় করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণের বিষয়টি জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী লেগুনাযাত্রী  রিয়াজ কবির জানান, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে বন্ধুর বাসায় যেতে তিনি নগরের অক্সিজেন থেকে ছেড়ে আসা একটি লেগুনাতে উঠেন। পরে লেগুনাটি বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার মাজার গেটে গেলে শিশুটিকে নিয়ে লেগুনায় ওঠে ওই কিশোরী। পথে কিছু দূর যেতেই শিশুটি কান্না করতে থাকলে ওই কিশোরী নিজেকে শিশুটির মা পরিচয় দিয়ে বলেন, শিশুটি পুতুলের জন্য কান্না করছে।

তবে শিশুটির সঙ্গে কিশোরীর বয়স মেলাতে গিয়ে সন্দেহ হয় রিয়াজ কবির। এরপর লেগুনায় থাকা আরেক যাত্রী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ওই শিশুটির কান্নার কারণ জানতে চান। এতে রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে যায় সেই কিশোরী। একপর্যায়ে যাত্রী রিয়াজ কবির তার বন্ধু মো. নোমানকে কল দিয়ে তাকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার সামনে থাকতে বলেন। এতে ওই কিশোরী শঙ্কিত হলে রিয়াজ কবিরের সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। পরবর্তীতে লেগুনার চালককে গাড়িটি বায়েজিদ বোস্তামী থানায় নিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর বিষয়টি বুঝতে পেরে কয়েকজন যাত্রী বায়েজিদ থানায় ঢোকার আগে লেগুনা থেকে নেমে গেলেও ওই শিক্ষিকা সেই কিশোরীকে ধরে রাখেন। একপর্যায়ে সেই কিশোরী পুলিশের কাছে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে।

তিনি আরো জানান, শিশু অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হাটহাজারী থানায় ফোন করা হলে সেখান থেকে পুলিশের একটি দল আসে। পরে তারাও নিশ্চিত হয় সেই শিশুটি গত বুধবার খেলার সময় নিখোঁজ হয়েছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে সেই কিশোরীর সহযোগী অপর এক কিশোরী ছাড়াও সাইফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত দুই কিশোরী মাদকাসক্ত। তারা মাদকের টাকার জন্য শিশুটিকে অপহরণ করে। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!