২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত জেলার পল্লী অঞ্চলে জনসংখ্যা ছিল ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৯ জন এবং শহর অঞ্চলে ছিল ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ২১৬ জন। এছাড়া প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাসকারী জনসংখ্যা এক হাজার ৭৩৬ জন। ২০১১ সালে ছিল এক হাজার ৪৪২ জন। জেলায় জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০১১ সালে যেটি ছিল এক দশমিক ৪০ শতাংশ।
.png)
চট্টগ্রামে মোট জনসংখ্যার ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ মুসলিম। এছাড়া বাকি ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশের মধ্যে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ হিন্দু, এক দশমিক ৬৩ শতাংশ বৌদ্ধ, শূন্য দশমিক শূন্য নয় শতাংশ খ্রিষ্টান এবং শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যা রয়েছেন।
মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ১১৩ জন পুরুষ এবং ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৬ জন নারী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাস করেন ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৬২ জন। গ্রামাঞ্চলে বাস করেন ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৯ জন। বস্তিতে বাস করে তিন লাখের বেশি মানুষ।
জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ আছে ৪৮ হাজার ২৪৫ জন। এরমধ্যে ২৫ হাজার ১৬৫ জন পুরুষ এবং ২৩ হাজার ৮০ জন নারী।
জেলায় অবিবাহিত নারীর চেয়ে অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা বেশি। ২৬ দশমিক ৫২ শতাংশ অবিবাহিত নারীর বিপরীতে অবিবাহিত পুরুষের হার ৪২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
তবে জেলায় পুরুষের চেয়ে বেশি নারীর সংখ্যা। প্রতি ১০০ জন নারীর অনুপাতে পুরুষের সংখ্যা ৯৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ১১৩ এবং নারীর সংখ্যা ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। সে হিসেবে নারী ২৮ হাজার ৮১৩ জন বেশি।
জেলায় বিবাহিত নারী ৬৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিবাহিত পুরুষ ৫৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বিধবা আট দশমিক ৯৯ শতাংশ, বিপত্নীক শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ, তালাকপ্রাপ্ত নারী শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ, তালাকপ্রাপ্ত পুরুষ শূন্য দশমিক শূন্য নয় শতাংশ, দাম্পত্য বিচ্ছিন্ন নারী শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ এবং পুরুষ শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ।
উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ফটিকছড়িতে। এ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ছয় লাখ ৪২ হাজার ৭৬ জন। এছাড়া বাঁশখালীতে পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৫ জন, সীতাকুণ্ডে চার লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন, হাটহাজারীতে চার লাখ ৯৮ হাজার ১৭৯ জন, সাতকানিয়ায় চার লাখ ৫৪ হাজার ৫১ জন, মীরসরাইয়ে চার লাখ ৭২ হাজার ৭৭৭ জন, আনোয়ারায় তিন লাখ ১৯ হাজার ৪৮২ জন, লোহাগাড়ায় তিন লাখ ২৮ হাজার ২০৬ জন, পটিয়ায় তিন লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ জন, রাঙ্গুনিয়ায় তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৯৮ জন, রাউজানে তিন লাখ ৯৬ হাজার ৩৫০ জন, সন্দ্বীপে তিন লাখ ২৭ হাজার ৫৫৩ জন, বোয়ালখালীতে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬৭৫ জন, চন্দনাইশে দুই লাখ ৫২ হাজার ২৩৮ জন এবং কর্ণফুলীতে দুই লাখ ৩ হাজার ৬৯৭ জন।
চট্টগ্রাম থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করছেন চার লাখ ৬৮ হাজার জন। বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেছেন ৩০ হাজার ৪৪৫ জন।
চট্টগ্রামে সাক্ষরতার হার ৮১ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। এরমধ্যে নারী ৭৯ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জেলায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ তরুণ-তরুণী পড়ালেখা, কাজ বা কোনো ট্রেনিং কার্যক্রমে যুক্ত নেই। এরমধ্যে নারীর সংখ্যা ৪৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং পুরুষের সংখ্যা ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
চট্টগ্রামে কমেছে কৃষিনির্ভর পেশার পরিমাণ। জেলায় কৃষিক্ষেত্রে কাজ করা জনসংখ্যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্পখাতে জড়িত ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৫৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৭ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। এরমধ্যে নারী ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পুরুষ ৮৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৫০ দশমিক ৮২ শতাংশ। এরমধ্যে নারী ৪২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৫৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, জন্মনিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০ দশমিক নয় শতাংশ। গ্রামীণ নারীদের তুলনায় শহরের নারীদের মধ্যে সনাতন পদ্ধতি ব্যবহারের অনুপাত এক দশমিক নয় গুণ বেশি। প্রশাসনিক বিভাগ বিবেচনায় চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে কম।