ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বন্ধুর দেওয়া তথ্যে মিলল কিশোরের কঙ্কাল

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০২, ১২ জুলাই ২০২৪
বন্ধুর দেওয়া তথ্যে মিলল কিশোরের কঙ্কাল
আটককৃত ইমরান

বরিশালে দুই মাস ধরে নিখোঁজ কিশোর মো. সোহেল ফরাজীর কঙ্কালের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) নিহত সোহেলের বন্ধু আটককৃত ইমরানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ সেতুর নিচ থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। 

নিহত সোহেল ফরাজী বরিশাল নগরের দক্ষিণ আলেকান্দা রিফিউজি কলোনি এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক ফরিদ ফরাজীর ছেলে। আটককৃত ইমরান একই এলাকার বাসিন্দা নান্না খানের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল।

Advertisement

নিহত সোহেল ফরাজীর ভাই সোহাগ ফরাজী জানান, তার ভাই ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করত। চালক বিদেশে চলে যাওয়ায় সে বেকার ছিল। দুই মাস আগে তার ভাইকে ডেকে নেয় বন্ধু ইমরান। তখন ভাই সোহেল বাবার ভাড়ায় চালিত রিকশাটি নিয়ে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি দুই মাস ধরে বন্ধু ইমরানও নিখোঁজ ছিল।  

স্থানীয়দের মাধ্যমে ইমরানের পরিবারের ওপর চাপ দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইমরানের সন্ধান পাওয়া যায়। তখন তার কাছে সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ তাকে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সোহেলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তখন বিষয়টি বন্দর থানায় জানানো হয়। পরে ইমরানকে নিয়ে খয়রাবাদ সেতুর নিচে গিয়ে একটি কঙ্কাল পায় বন্দর থানা পুলিশ।  
 
আটককৃত ইমরান পুলিশকে জানায়, সোহেলের রিকশাটি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পরিকল্পনা করে তার তিন বন্ধু হৃদয়, বাপ্পি ও রাকিব। পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের লাকুটিয়া সড়কের একটি দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কেনা হয়। পরে কীর্তনখোলা নদীর ওপর সেতুতে এনাজিং ড্রিংকসে গুঁড়ো করা ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। সেখান থেকে চারজন খয়রাবাদ সেতুর নিচে যায়। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস পান করানো হয় সোহেলকে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে নদীর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রিকশা বিক্রি করে পালিয়ে যায় ইমরান।

বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, আটক বন্ধুর দেওয়া তথ্যে কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!