ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পায়ে সমস্যা থাকা কিরণের হাত-পা ভেঙে দিল বিএসএফ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ৯ জুলাই ২০২৪
পায়ে সমস্যা থাকা কিরণের হাত-পা ভেঙে দিল বিএসএফ
বিএসএফ -ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে কিরণ (৪৫) নামে এক হিজরা সম্প্রদায়ের সদস্যকে মারধর করে হাত পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার সকালে আহত কিরণকে বিজিবির মাধ্যমে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। 

১১ জনের হিজরার একটি দলের সঙ্গে কিরণও কাজের খোঁজে রাতের আঁধারে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। ১০ জন স্থানীয় চোরাকারবারীদের সহযোগিতায় ভারতে যেতে পারলেও কিরণ বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন বলে জানান তিনি। 

Advertisement

কিরণ জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় বাড়ি তার। সানজিতা নামে এক হিজরার নেতৃত্বে ১১ জন হিজরা কাজের খোঁজে ভারতে যাওয়ার মিশনে নামেন। বাংলাবান্ধা এলাকার কয়েকজন গরু চোরাকারবারীর সঙ্গে চুক্তিও করেন তারা। প্রতিজনকে ভারতে পার করে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। রোববার তারা বাংলাবান্ধার একটি বাড়িতে অবস্থান করেন। রাত ১টায় বৃষ্টির মধ্যে তাকে সীমান্তে নিয়ে যান চোরাকারবারীরা। এ সময় ১০ জন দৌড়ে ভারতে পাড়ি দিতে পারলেও পায়ে সমস্যা থাকায় পড়ে যান কিরণ। তাকে ধরে ফেলে বিএসএফ। পরে পাঁচজন বিএসএফ সদস্য মিলে লাঠি ও রাইফেলের বাট দিয়ে তাকে তিন ঘণ্টা ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে যান তারা। সোমবার সকাল ১০টায় বিজিবি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় তাকে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্স ও পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। 

কিরণ বলেন, ভারতে নাকি কাজের সুযোগ বেশি, রোজগারও বেশি। এজন্য ১০ জনের সঙ্গে আমিও ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। দালালদের ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মধ্যরাতে যখন তারা আমাদের সীমান্তে নিয়ে দৌড় দিতে বলে ওরা ১০ জন দৌড়ে পালাতে পারলেও আমি পড়ে যাই। পরে আমাকে ধরে তিন ঘণ্টা মারধর করে বিএসএফ সীমান্তে ফেলে যায়। হাত-পা ভেঙে যাওয়ায় আমি উঠতে পারছিলাম না। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করেছি কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে বিজিবি সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিরণ -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশতেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, ওই ব্যক্তিকে বিএসএফ মারধর করে হাত পা-ভেঙে দিয়েছে। বিজিবির মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। 

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রহিমুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তিকে তেঁতুলিয়া থেকে এখানে রেফার্ড করা হয়েছে। তার হাত মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাতে ফ্র্যাকচার হতে পারে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে রেফার্ড করা হয়েছে। 

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক বলেন, ওই ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন। বিজিবি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছে। অবৈধভাবে সীমানা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করেছি। একইসঙ্গে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান করা হয়েছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!