ওইসব জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতিক খুঁটি থাকার ফলে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন,পথচারীসহ সাধারণ লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে বছরের পর বছর এইসব খুঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও সরানের কোনো মাথা ব্যথা নেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির।
রাস্তার মাঝে এসব খুঁটি থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে অচেনা চালক কোন যন্ত্রচালিত যানবাহন নিয়ে আসলে এই খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই পল্লী বিদ্যুতের এসব খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় স্থাপনের দাবি জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী।
.png)
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের সড়ক বাজার হলো একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে প্রতিদিন রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে অসংখ্য যাত্রী এবং পথচারীরা পায়ে হেঁটে চলাচল করছে। দীর্ঘ বছর ধরে সড়ক বাজার, লাল বাজার ও মসজিদপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে রাস্তার মাঝ খানে খুঁটি বসানো হয়েছে। তবে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার মাঝে এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার কারণে প্রায় ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। খুঁটি সরাতে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি একাধিকবার জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
একাধিক পথচারী জানায়, যত্রতত্র রাস্তার মাঝখানে ওইসব বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার কারণে তাদের যাতায়াতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় অসাবধানবশত যানবাহন খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া মূল রাস্তার মাঝে খুঁটি থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও সেটি আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

পৌর শহরের সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুমন মিয়া বলেন, আখাউড়া হলো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে রয়েছে রেলওয়ে জংশন, খড়মপুর সৈয়দ আহমেদ গেছু দারাজ কেল্লা শাহ (রহ.) মাজার ও স্থল বন্দর। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সড়ক ও রেলপথে অসংখ্য মানুষ এখানে আসছে। মূল শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গার রাস্তার মাঝে অপরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো আছে। এসব খুঁটি থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব খুঁটি থাকার ফলে যাত্রীসহ পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, দোকানের সামনে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় ক্রেতারা আসা যাওয়া করতে অসুবিধে সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় অসাবধানবশত চলাচলের কারণে খুঁটিতে পথচারীরা লেগে গিয়ে আঘাত পাচ্ছেন। তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায় খুঁটিতে সাইকেল বেঁধে চলে যাওয়ায় দোকানে ক্রেতা আসা যাওয়া করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ময়নাল হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে রাতের অন্ধকারে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোকে সাইড দিতে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হই। আমার মতো অনেকেই এ রকম দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
অটোরিকশা চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক বাজার এলাকায় প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। অনেক সময় অসাবধানবশত চলাচলের কারণে খুঁটির সঙ্গে অটোরিকশা ধাক্কা খেয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে অপরিচিত কোনো চালক রাতের আঁধারে চলাচল করতে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব খুটি দ্রুত রাস্তার মাঝ খান থেকে সরানোর দাবি জানান।
আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আবুল বাশার বলেন, রাস্তায় যে সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি লাগানো হয়েছিল তখন রাস্তা সরু ছিল। রাস্তার সংস্কার ও সম্প্রসারণের ফলে আগে স্থাপিত কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তার ওপর এখনো রয়ে আছে। অনেক গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি খুঁটি সরানো হয়েছে। খুঁটি সরাতে কেউ যদি আবেদন করে সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ জায়গায় স্থাপন করা হবে।