ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অভিনব কায়দায় বন্ধুকে অপহরণ, যেভাবে গ্রেফতার হলেন তারা

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১৯, ৫ জুলাই ২০২৪
অভিনব কায়দায় বন্ধুকে অপহরণ, যেভাবে গ্রেফতার হলেন তারা
অপহরণে জড়িত ৫ জন গ্রেফতার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্ধুর হাতে বন্ধু অপহরণ হয়েছেন। এ সময় ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছে। ফেনীতে অপহরণের একদিন পর বন্ধুর ভাড়া বাসা থেকে মো. রায়হান রানা নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছে দাগনভূঞা থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতার ৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বুধবার রাতে দাগনভূঞা পৌরসভার সাতবাড়িয়া জামে মসজিদ এলাকার লাতু মিয়ার কলোনী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত যুবকের বাবা মো. বেলাল বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

Advertisement

অপহৃত যুবক মো. রায়হান রানা লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর কলাকোপা গ্রামের মো. বেলালের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম পিন্টু, ফখরুল ইসলাম, আল জাবের, আজমীর হোসেন হৃদয় ও টিটু দাশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রামগতি থেকে চট্টগ্রামের কর্মস্থলে যোগ দিতে গাড়িতে ওঠেন মো. রায়হান। যাত্রাপথে রায়হান মুঠোফোনে ফেনীর দাগনভূঞার বাসিন্দা বন্ধু বুদ্দির সঙ্গে চট্টগ্রামে যাওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন। বন্ধু বুদ্দি তাকে দাগনভূঞা নেমে ভাত খাওয়ার দাওয়াত দেন। কথামতো দুপুর ১টায় রায়হান দাগনভূঞা বড় মসজিদের সামনে বাস থেকে নেমে বুদ্দির সঙ্গে দেখা করেন। পরে বুদ্দি তাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য সাতবাড়ি মসজিদের বিপরীতে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে একটি কক্ষে তাকে আটকে ফেলেন। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত বুদ্দির অপরাপর সহযোগীরা রায়হানকে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার নিকটাত্মীয় বিবি শাহেনাজের নম্বর নিয়ে চক্রের সদস্য ফখরুল (গ্রেফতারকৃত) নিজের মুঠোফোন থেকে কল করে রায়হানের বাবা মো. বেলালের সঙ্গে কথা বলে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে রায়হানের বাবাকে দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে আসতে বলেন ফখরুল।

পরদিন (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে অপহরণকারীদের কথামতো বেলাল হোসেন ও শাহেনাজ দাগনভূঞার জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছান। এ সময় ওই এলাকায় টহলরত দাগনভূঞা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীরকে দেখতে পেয়ে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে সহযোগিতা চান তারা। এরপর ওই পুলিশ সদস্যের বিচক্ষণতায় রায়হানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দাগনভূঞা থানার উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর বলেন, বেলাল হোসেন ও শাহনাজ বিস্তারিত বলার পর তাদের অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেই। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্য (গ্রেফতারকৃত) আল জাবের মুক্তিপণের টাকা নিতে আসলে তাকে আটক করে তার বর্ণনা মতে পৌরসভার সাতবাড়িয়া জামে মসজিদ এলাকার লাতু মিয়ার কলোনির টিনসেড বাসা থেকে অপহৃত রায়হান রানাকে উদ্ধার ও অপহরণে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় চক্রের বাকি সদস্যরা পালিয়ে যায়। 

দাগনভূঞা থানার (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, গ্রেফতার ৫ আসামিকে বৃহস্পতিবার দুপরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপহৃত যুবকের বাবা বেলাল হোসেন বাদী হয়ে আসামিদের নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেছেন। চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ফেনী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!