ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৪৩, ৪ জুলাই ২০২৪
স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা!
তায়েবা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ডুবি গ্রামের কৃষক মানিক মিয়ার মেয়ে তায়েবা আক্তার (২২)। তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল জেলা সদরের লতিবাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। বছর দুয়েক পরে তাদের সংসারে আসে ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান। সেই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে, গত ৩০ জুন আত্মহত্যা করেন তায়েবা।

তায়েবার বাবা বলেন, তায়েবা ছিল খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে। বাবা মায়ের অনেক আদরের হওয়ায় বিয়ের সময় স্বামীর সংসারে সুখের কথা চিন্তা করে ঘরের আসবাবপত্রসহ নগদ অর্থ দিয়েছিলাম। কিন্তু সুখের বদলে তিন বছর পর মেয়ের আত্মহত্যা দেখতে হয়েছে।

তায়েবার বাবার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর সংসারে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে তায়েবাকে মারধর করত। টাকার জন্য তায়েবাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। মেয়ের ওপর যেন নির্যাতন না হয়, তার জন্য গত তিনবছরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক নেন হাবিবুর। তবুও নির্যাতন কমেনি। সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে এসে থেকেছেন তায়েবা। এরমধ্যে কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। বাবার বাড়িতে থাকাকালে খবর আসে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন স্বামী হাবিবুর রহমান। এই খবরে গত ২৫ জুন স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন তায়েবা। সেখানে তিনদিন থাকার পর ২৮ জুন বিকেলে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খেয়ে তায়েবা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বাবার বাড়িতে এমন খবর দেন স্বামী। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসা শেষে ২৯ জুন আবারো বাবার বাড়িতে চলে আসতে হয় তায়েবাকে। ৩০ জুন বিকেলে ঘরের দরজা আটকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তায়েবা। তার লাশ উদ্ধার করে নিকলী থানা পুলিশ।

Advertisement

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিহত তায়েবার স্বামী হাবিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তায়েবার বাবা আরো অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তায়েবাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে তার স্বামী। বিষয়টি পুলিশকে বলার পরও আমার মেয়ের অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছে। আমার মেয়ের আত্মহত্যার বিচার চাই।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, তায়েবার মৃত্যুর পর তার বাবা মানিক মিয়া বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। যদি তারা আমাদের আত্মহত্যার প্ররোচনার কথা বলতেন তাহলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মামলা নিতাম। 

তিনি আরো বলেন, অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে যে বিষয়টি শেষ তা না। তারা ইচ্ছা করলে আত্মহত্যা প্ররোচনায় অভিযোগ ও মামলা করতে পারেন। অথবা কোর্টেও মামলা করতে পারেন। তখন কোর্ট যে নির্দেশনা দিবে আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!