জানা যায়, অভিযুক্ত আল আমিন সরদার রাজধানী ঢাকার কদমতলীর শ্যামপুর এলাকার জুয়েল সরদারের ছেলে। কাজের সুবাধে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বসবাস করেন।
স্বজনরা জানান, আট মাস আগে বান্ধবীর বিয়েতে যান ওই ছাত্রী। সেখানে বান্ধবীর মামাতো দেবর আল আমিন সরদারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরে ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বান্ধবীর ফুফু পরিবারকে না জানিয়েই ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় নিয়ে যান। পরে প্রেমিক আল আমিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
.png)
একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন আল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার (২৯ জুন) তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি এসে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তাকে ভর্তি করা হয় জেলা সদর হাসপাতালে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এদিকে, নির্যাতনের দৃশ্য মনে পড়লেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ওই ছাত্রীর। ভয় আর আতঙ্কে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। মিথ্যে বিয়ের আশ্বাসে এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, মাদারীপুরের পুলিশ বলে ঢাকায় গিয়ে মামলা করতে। আমরা গরিব মানুষ, কীভাবে ঢাকায় গিয়ে মামলা করব। ঘটনার শুরু তো মাদারীপুর থেকে হয়েছে। এখানে মামলা নেবে না-এর বিচার কি পাব না?
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তো দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। মাদারীপুরে ধর্ষণের ঘটনা না হওয়ায় এখানে মামলা নেয়ার সুযোগ নেই। প্রেমের সম্পর্কের পর এমন ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জেই মামলা করতে হবে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জর থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার শুরু যেখানে, সেখানেই মামলা করতে হবে। মাদারীপুরে মামলা হলে আমরা আসামি ধরে সহযোগিতা করব। এখানে মামলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।