নিহত কায়সার আলী (৬০) উপজেলার অন্তাহার দক্ষিণপাড়ার মৃত গরিবউল্লাহর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার অন্তাহার এলাকায় এক মসজিদের পাশে পড়ে থাকা লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
.png)
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদমদিঘী থানার পুলিশ ওসি (তদন্ত) একেএম মঈন উদ্দীন। এর আগেও জেলায় দুই জোড়াসহ মোট ৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ওসি (তদন্ত) জানান, নিহত কায়সার আলী পেশা মাছের পুকুরের নৈশপ্রহরী ছিলেন। কয়েক বছর ধরে ভবঘুরে জীবনযাপন করে আসছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের তার স্ত্রী এবং ২২ সালে তার বড় ছেলে মারা যান। এরপর থেকেই তিনি ভবঘুরে হয়ে যান। বুধবার সারাদিন শেষে রাতে আর নিজ বাড়িতে ফেরেননি কায়সার আলী। বৃহস্পতিবার ভোরে অন্তহার এলাকায় মসজিদের মোয়াজ্জিম আযান দিতে গিয়ে দেখতে পান লাশ পড়ে আছে। তখন গ্রামের লোকজনদের খবর দেন। গ্রামের লোকজন থানা পুলিশকে সংবাদ দেন। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তিনি আরো জানান, কে বা কারা তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের হত্যা করে লাশ ওখানে রেখে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ, চলতি বছরের জুনের ২ তারিখে বগুড়ার বনানীতে আবাসিক হোটেলে স্ত্রী-সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করেন স্বামী। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ড হয়, এর মধ্যে একই রাতে সন্ত্রাসী ব্রাজিল ও ইজিবাইক ছিনতাই করে চালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর সারিয়াকান্দিতে এক স্কুলছাত্রকে মারপিটে হত্যা করা হয়। তারপর জেলার শিবগঞ্জে একজনকে মারপিটে হত্যা করা হয়। ঈদের রাতে পুলিশ সুপারের বাংলো থেকে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু তার ছোট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ সাজিল আহমেদ টিপুর নেতৃত্বে শহরের নিশিন্দারা এলাকায় দুই যুবককে গুলি ও উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর গুলি করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত শনিবার (২২ জুন) রাতে এক খামারিকে ড্রেনে চুবিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) কায়সার আলী হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত হলো।