ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা

পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৭ জুন ২০২৪
পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা
ফাইল ফটো

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পিডিবি। তবে পৌর মেয়র বলছেন, এটি তার সময়কালের নয়। খুব দ্রুত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হবে।

বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিডিবির জেলা কর্মকর্তা। এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে একটি মার্কেট ও গোডাউন রোডস্থ পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সাড়ে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। 

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৩৮ টাকা। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বকেয়া ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। আর সরকারি দফতরগুলোতে ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ ও বেসরকারি পর্যায়ে ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৮ টাকা। বকেয়া বিল আদায়ে পিডিবি একাধিকবার নোটিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। এরমধ্যে পৌরসভাকে সর্বশেষ নোটিশ দিয়েছে গত ২৬ মে।

বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার (২৫ জুন) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মালিকানাধীন আধুনিক বিপণি বিতান ও গোডাউন রোডস্থ পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরমধ্যে পানির পাম্পের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল ৮৯ লাখ ৭ হাজার ১৮৪ টাকা ও পৌর আধুনিক বিপণি বিতানের বকেয়া ১৮ লাখ ৯০ হাজার ২৯৭ টাকা। এছাড়া পৌর সুপার মার্কেটের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৪০ লাখ টাকা। তবে তাৎক্ষণিক মুচলেকা ও বকেয়া ২৭ লাখ টাকা পরিশোধ করায় বিকেল ৫টায় ওই দুই মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে জেলা পিডিবি।

এছাড়া একইদিন লক্ষ্মীপুর পিডিবি পৌরসভা ব্যতীত আরো ৯ টি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। জরিমানা আদায় করে ৪৫ লাখ ১৩২ টাকা। বুধবার (২৬ জুন) ১১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ও বকেয়া বিল আদায় করে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৭ টাকা।

পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ পারভেজ বলেন, পৌরসভায় আমাদের এক টাকাও বকেয়া নেই পানির বিল। জানা মতে, অন্য গ্রাহকদেরও পানির বিল বকেয়া রাখার সুযোগ নেই। তারপরেও গোডাউন রোডস্থ পানির পাম্পের এত টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া। আবার সেই অভিযোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়। যা খুবই দুঃখজনক। গতকাল দিনের বেলায় পানি না পাওয়ায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাদের।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রত্যেক মাসে বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া দিয়ে থাকি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পিডিবিকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি। এটি ব্যবসায়ীদের দোষ নয়। তারপরেও আমরা শাস্তি পেয়েছি। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিহীন ছিল আমাদের মার্কেট। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর দায় মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আমাদের দাবি দ্রুত বকেয়া বিলগুলো পরিশোধ করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে না হয়।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূইয়া বলেন, ৪ কোটি ২১ লাখ টাকার সবগুলো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আমার দায়িত্বকালীন সময়ের নয়। বেশিরভাগ বকেয়া পূর্বের মেয়র রেখে গিয়েছেন। তবে আমি চেষ্টা করছি দ্রুত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার। আর সাময়িক সমস্যার জন্য ব্যবসায়ী ও পৌর বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতে খায়রুল ইসলাম বলেন, পৌরসভাকে একাধিকবার নোটিশ করা হলেও তারা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি। এজন্য তাদের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু টাকা পরিশোধ, মুচলেকা ও আগামী এক মাসের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হয়। তবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!