স্থানীয়দের অভিযোগ, ধসে যাওয়া অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও শুরু হয়নি মেগা প্রকল্পের কাজ। বরং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ নামে বারবার জোড়াতালি দেওয়ায় প্রায়শই ঐ এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৯ নম্বর সোরা গ্রামের দৃষ্টিনন্দনসহ হরিশখালী এলাকায় টেকসই উপকূল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু না হলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ৯ নম্বর সোরা এলাকার মালিবাড়ি ও গাজিবাড়ী অংশে ১২-১৪ ফুট চওড়া উপকূল রক্ষা বাঁধের আড়াই থেকে তিন ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। প্রায় দুইশ ফুট জায়গাজুড়ে ধসের সৃষ্টি হওয়া ঐ অংশের কোনো কোনো স্থানে আবার মাত্র দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বাঁধ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভাঙনরোধে একদিন আগে পাউবোর পক্ষ থেকে ফেলা জিও ব্যাগগুলো ধসে যাওয়া অংশের পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ জনবল বাড়িয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা অব্যাহত রেখেছে।
.png)
ভাঙন সংলগ্ন অংশে বসবাসরত মিলন হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে গাবুরায় এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অথচ ঠিকাদার নিযুক্ত না হওয়ার অজুহাতে তাদের এলাকায় এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। এদিকে খোলপেটুয়া নদীর মধ্যভাগে বিশাল চর জেগে ওঠায় স্রোত তাদের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাঁধে আঘাত করছে। তাদের এলাকার বাঁধের ভাঙন অব্যাহত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন বলেন, গত এক বছরে সংলগ্ন এলাকার বাঁধে চারবার ধসের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা না নেয়ায় পর্যায়ক্রমে ভাঙন গোটা বাঁধকে প্রায় নদীতে মিশিয়ে দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে ৯ ও ১০ নম্বর সোরা এবং হরিশখালীসহ গাবুরার ১২-১৪টি গ্রাম নদীতে বিলীন হতে পারে।

স্থানীয় গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, অপরাপর অংশে মেগা প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। অথচ হরিশখালী ও ৯ নম্বর সোরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কাজ না হওয়ায় সেই এলাকা বার বার ভাঙছে। অব্যাহত ভাঙনের কারণে দৃষ্টিনন্দনের একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুরসহ একাধিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, গোটা গাবুরার প্রায় ২৯ কিলোমিটার উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৪৮টি প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। প্রায় অর্ধেক প্যাকেজের কাজ চলমান থাকলেও হরিশখালী ও দৃষ্টিনন্দনের ২৬ নম্বর প্যাকেজের কাজ করার জন্য অদ্যবধি কোনো ঠিকাদার পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো বলেন, হরিশখালী ও দৃষ্টিনন্দন এলাকার ভাঙনের বিস্তৃতি ঠেকাতে পাঁচ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের আওতায় অপরাপর প্রকল্প থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে সাতশ ব্যাগ এরই মধ্যে ভাঙনকবলিত অংশে ডাম্পিং করা হয়েছে।