ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাসেল ভাইপার নয়, ওঝাই কাল হলো হোসেন ব্যাপারির

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২৪ জুন ২০২৪
রাসেল ভাইপার নয়, ওঝাই কাল হলো হোসেন ব্যাপারির
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরে বিষধর রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে হোসেন ব্যাপারি নামে একজন কৃষকের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতে যেয়ে জানা গেলো নতুন তথ্য।

সাপের কামড়ে বিষদাঁতের টুকরো গেঁথে ছিলো তার পায়ে, তবে হাসপাতালের চিকিৎসায় ভরসা না পেয়ে রাত গভীরে হাসপাতাল ছেড়ে ওঝার বাড়িতে ছুটে যাওয়াই কাল হলো হোসেন ব্যাপারির জীবনে।

হোসেন ব্যাপারির মামা সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার হেলালউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

Advertisement

গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশে ক্ষেতে ঘাস কাটার সময় সাপে কামড়ায় হোসেন ব্যাপারিকে। হোসেন ব্যাপারি ওই গ্রামের পরেশউল্লা ব্যাপারির ছেলে। এরপর তাকে ট্রলারযোগে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে এপাড়ে এনে নিয়ে যাওয়া হয় ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

হোসেন ব্যাপারিকে কি রাসেল ভাইপার সাপেই কামড়িয়েছিল? এ প্রশ্নের সত্যতা জানতে চাইলে হেলালউদ্দিন জানালেন, তার কাছেই হোসেন ব্যাপারি নিজমুখে বলে গেছেন রাসেল ভাইপারে কামড়ানোর কথা। 

হেলাল বলেন, চরের মানুষ আমরা। আগে পড়ে বেশ কয়েকবার দেখেছি এই রাসেল ভাইপার সাপ। হোসেন ব্যাপারিও চিনতো সাপটিকে। কামড়ানোর পরে তাকে আমিই অন্যদের সঙ্গে নিয়ে গেছি হাসপাতালে। তখন তিনি নিজের মুখে আমাকে বলেছেন, তাকে রাসেল ভাইপার সাপ কামড়িয়েছে। সাপের কামড়ে বিষদাঁতের টুকরোও লেগে ছিলো তার পায়ে। পরে সেটি ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

তবে সমস্যাটি হয়েছে অন্য জায়গায়, বলেন হেলাল। তিনি জানান, হাসপাতালে নেয়ার পরে হোসেন ব্যাপারি সুস্থ ছিলেন। তাকে ইঞ্জেকশন ও স্যালাইন পুশ করা হয়। তার রক্তও পরীক্ষা করা হয়। তবে চিকিৎসকেরা জানান, তার রক্তে তখনও রাসেল ভাইপার সাপের বিষ ছড়িয়ে পড়েনি। তাই তখনই তাকে এন্টিভেনম দেওয়ার সময় হয়নি বলে তারা জানান।

হেলাল বলেন, হাসপাতালে তখন ইন্টার্নি চিকিৎসক ছিলেন ডিউটিতে। হোসেন ব্যাপারির পরিবার তখন বড় ডাক্তারের খোঁজ জানতে চাইছিলো। হাসপাতালে নেয়ার পরেই হোসেনের শরীরের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়েছিলো। তারা বেশ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ অবস্থায় রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে চরভদ্রাসনের হাজিগঞ্জে এক ফকির বাড়িতে।

হেলাল বলেন, তখনো হোসেন সুস্থ ছিলো। কিন্তু ফকির বাড়িতে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার পরে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। রাতে তিনি প্রস্রাব করার সময় প্রস্রাব দিয়ে রক্তও পড়ে। এরপর সকালে নাকমুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৯টার দিকে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে তারপর তাকে আর চিকিৎসা দেওয়ার কোন পর্যায় ছিল না। এরপর সকাল ১১টার দিকে মারা যান তিনি।

এদিকে, জেলার চরাঞ্চলে হঠাৎ রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন বিষধর সাপের কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। চর এলাকার অধিকাংশ মানুষ তেমন সচেতন না থাকায় সাপে কাটা রোগীকে নিয়ে স্বজনরা ছুটছে ওঝার বাড়িতে। কেউবা হাসপাতালে আসছে অনেকটা সময় পেরিয়ে। ফলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ফরিদপুরের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন রয়েছে। অ্যান্টিভেনমের কোনো ঘাটতি নেই। এ ইনজেকশনগুলো হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, সাপ আতঙ্ক ও সাপে কাটার বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এক হাজার গাম্ববুট বিতরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!