ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ!

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৬, ২৪ জুন ২০২৪
টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ!
কলেজ ভবন ও ইনসেটে অধ্যক্ষ আহসান কবির

নকলের সুযোগ দিতে পরীক্ষার্থীদের থেকে ১২০০ করে টাকা নিচ্ছেন বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আহসান কবির। শুধু তাই না কলেজ বন্ধ রেখে বাড়িতে বসেই পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সোনাতলার বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজে। 

রোববার (২৩ জুন) কলেজে গিয়ে দেখা যায় কলেজটি বন্ধ রয়েছে। সেখানে উপস্থিত কেউ ছিলো না। পরে অধ্যক্ষর বাসার সামনে অবস্থান করেন এই প্রতিবেদক। দেড় ঘণ্টার অবস্থানকালে দেখা যায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ২০-২৫ জন পরীক্ষার্থী অধ্যক্ষের বাসায় প্রবেশ করেন। বের হওয়ার সময় তারা প্রবেশপত্র ও সাজেশন নিয়ে আসেন।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, স্যার আমাদের বাসায় এসে প্রবেশপত্র নিতে বলেছেন, সেই সঙ্গে ১২০০ করে টাকা আনতে বলেছেন। আমরা গরিব শিক্ষার্থী এতো টাকা কই পাব। তবুও বাধ্য হয়ে দিতে হলো দাবিকৃত টাকা।

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী। কলেজ বন্ধ থাকায় স্যারের বাসায় এসে প্রবেশপত্র নিলাম। 

কত টাকা নিয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ১২০০ টাকা। এতো টাকা কেনো? জানতে চাইলে বলেন, স্যার আমাদের নকলের সুযোগ করে দিতে চাইছে। তাই প্রবেশপত্রের দুইশ এবং পরীক্ষা সেন্টারে নকলের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ১০০০ টাকা নিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, কলেজ তো খোলাই থাকে না। ক্লাসও হয় না। আবার শিক্ষার্থীদের থেকে ১২০০ করে টাকা নেয়া হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাব।

জানা যায়, ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এরই মধ্যেই আরো নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ কলেজের বিভিন্ন কাজ বাসায় বসেই নিজেই করে থাকেন এবং এসব কাজ বাবদ শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আহসান কবিরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তা রিসিভ না করে বন্ধ করে রাখেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আপনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!