আজিজুল হক ও মোছা. সুফিয়া খাতুন দম্পতির ছোট ছেলে আব্দুল বারিক জাম্বু ও বড় ছেলে মো. রুহুল আমীন। তারা একই বাবার সন্তান হওয়ার কারণে সনদে আব্দুল বারিক জাম্বুর নামের স্থলে সহজেই মো. রুহুল আমিন লিখে নেন। অনুরুপভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সেরে নেন।
এসএসসি পাশের ভুয়া সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বহাল তবিয়তে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে নিজের পরিচয় গোপন করে চাকরি করে আসছেন মো. রুহুল আমীন নামে ছোট ভাই আবদুল বারিক জাম্বু।
এদিকে আব্দুল বারিক জাম্বুর বড় ভাই মো. রুহুল আমীন বলেন, আমারও ঢাকায় একটি চাকরির সুযোগ হয়। এজন্য বিনসাড়া হাইস্কুলে আমার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট নিতে গেলে সেখানকার সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াজেদ জানান, ২০০৯ সালে মো. রুহুল আমীনের বাবা আজিজুল হক সার্টিফিকেট হাইস্কুল থেকে তুলে নিয়ে গেছেন।
.png)
তিনি নিশ্চিত হন তার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকায় শিশু হাসপাতালে আব্দুল বারিক জাম্বু মো. রুহুল আমিন নামে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন।
অপরদিকে নিজের এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট না পেয়ে ঢাকার পোশাক শ্রমিক কারখানায় কাজ করে খুব কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. রুহুল আমীন। তার সার্টিফিকেট ফিরে পেতে তিনি ২০২০ সালের ৩১ জুলাই তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
বিনসাড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, মো. রুহুল আমীনের এসএসি পাশের সার্টিফিকেট তার বাবা আজিজুল হক তার ছেলের চাকরির কথা বলে ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ বিধি মোতাবেক স্বাক্ষর দিয়ে তুলে নিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, মো. রুহুল আমীন হাইস্কুলে এসেছিলেন তার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য। আমরা তাকে পরামর্শ দিয়েছি নিয়মানুযায়ী বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট তুলে নেয়ার জন্য।
মো. রুহুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, ভুয়া সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চাকরি করছেন তারই ছোট ভাই আব্দুল বারিক জাম্বু। প্রতারণা করে সরকারি চাকরি নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অথচ নিজের এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট না থাকায় ২০০২ সাল থেকে আমার পোশাক শ্রমিক কারখানায় কাজ করে পরিবার নিয়ে খুব অভাব অনটনে দিন কাটে। বার বার নিজ পরিবারের কাছে প্রতিকার চেয়ে সমাধান মেলেনি এখনো। পরে রাজশাহী বোর্ড থেকে আমার এসএসসি পাশের সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট কপি ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট তুলে এনে রেখে দিয়েছি।
আব্দুল বারিক জাম্বু ও মো. রুহুল আমীনের বড় ভাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সবুর মিন্টু প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে তো বড় অন্যায়। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত আব্দুল বারিক জাম্বুর সঙ্গে কথা হলে, তিনি কোনো কিছু বলতে রাজি হননি।