বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৮তম সভায় এসব নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। পাহাড়গুলোতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। অবৈধ এসব বিদ্যুৎ সংযোগ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা থাকবে। ১৫ দিন পর এ সংক্রান্ত বিষয়ে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে তথ্য দিতে হবে।
.png)
তিনি বলেন, যারা পাহাড়ে অবৈধভাবে আছে, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আমরা যতটুকু পেরেছি করেছি। যদি কেউ যেতে চায়, তাদের আশ্রয় দেওয়া হবে। কয়েকদিন আগেও চট্টগ্রাম বিভাগে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। তাদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনায় এনজিওগুলো পিচঢালা রাস্তা করে দিচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম বলেন, কোন কোন এনজিও এ কাজ করছে, নামগুলো দেন। কারা করেছে? পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনায় বৈধ রাস্তা, এটা কীভাবে সম্ভব! রাস্তার কাজ তো সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন করে।
এ সময় চসিক ও সিডিএ প্রতিনিধির কাছে বিষয়টি জানতে চান বিভাগীয় কমিশনার। জবাবে তারা বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এরপর পাহাড়ে রাস্তার করার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরে সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে ২৬টি। এসব পাহাড়ে বাস করে ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবারের ৩০ হাজার মানুষ। ২৬ পাহাড়ের মধ্যে ১৬টি সরকারি সংস্থার ও ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩০০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করেই দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিটি সভায় সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কার্যত তা বাস্তবায়ন হয় না।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, নগরের ২৬টি পাহাড়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে শুধু মহানগরে ৫১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড় থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ১০ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে।