অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদরাসায় না পড়েও নিজের সন্তানের নামে উপবৃত্তির টাকা গ্রহণসহ অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে এই সুপারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, দুই বছর ধরে আলী আকবর ডেইল দাখিল মাদরাসায় সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন জহিরুল ইসলাম। ৩ মাস আগে অন্যত্র নিয়োগ পেয়েছেন মর্মে পরিচালনা কমিটির কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেন তিনি; কিন্তু মাদরাসা সুপার থাকাকালে নিয়োগবাণিজ্য, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে রশিদ ব্যতীত অতিরিক্ত টাকা আদায়, অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক এবং কর্মচারীদের ছুটি প্রদান, মাদরাসার জমি বর্গার টাকা আত্মসাৎ, বিনা ছুটিতে মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকা, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণের পর অবশিষ্ট বই অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া, মাদরাসার জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াশ ব্লকের মোটর ও পানির ট্যাংক আত্মসাৎ এবং পরীক্ষার হলে যাওয়ার অজুহাতে সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
.png)
এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখার জন্য জনতা ব্যাংকের ম্যানেজারকে একটি লিখিত আবেদনও করেন তিনি। এ কারণে বিগত মাস দুই মাস ধরে বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না শিক্ষক কর্মচারীরা। শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে আলী আকবর ডেইল দাখিল মাদরাসায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে যোগদান করতে সুপার জহিরুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। চলতি বছরেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত বই বিতরণ করার পর অবশিষ্ট বই চুরি করে বিক্রি করতে আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন; কিন্তু এটি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় অসম্মতি প্রকাশ করি।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুচ্ছাফা বলেন, তিন মাস আগে অন্য মাদরাসায় নিয়োগ পেয়েছেন বলে পরিচালনা কমিটি বরাবর ছাড়পত্রের আবেদন করেন ওই সুপার। তখন মাদরাসার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যথাযথ হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন মাদরাসা পরিচালনা কার্যক্রমে অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিভিন্ন অপকর্মসহ আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, ওই সুপারকে সাময়িক বরখাস্তসহ আত্মসাৎকৃত সব টাকা মাদরাসার তহবিলে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বিচার দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন।