মাদারীপুরের তিনজন হলেন- জেলার শিবচরের আলী হাওলাদার, সাব্বির ও তাদেরই বন্ধু আরো একজন। এদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) ভূমধ্যসাগরের এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এখনো ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আরোহীরা লিবিয়া হয়ে ইতালি যাবার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সাগর পাড়ি দিচ্ছিলেন।
.png)
জানা যায়, নৌকাটি সোমবার (১৭ জুন) ভোরে ইতালির লাম্পেদুসা উপকূল থেকে ৪০ মাইল (৬০ কিলোমিটার) পশ্চিমে এসে ঝুঁকিতে পড়ে যায়। ভূমধ্যসাগরের সক্রিয় সংস্থা এলার্ম ফোন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের মাল্টা উপকূলে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোন থেকে উদ্ধার করে জার্মান এনজিও রেসকিউশিপের মানবিক উদ্ধার জাহাজ ‘নাডির’।
রেসকিউশিপের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্টিফেন সেফার্ট সোমবার ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, আমরা যখন নৌকাটি খুঁজে পেয়েছিলাম তখন বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আমাদের উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে উপরের ডেকে থাকা লোকদের উদ্ধার করে। পরে আমরা দেখতে পাই নৌকার ডেকের নিচেও লোক রয়েছে। জায়গাটি পানি ও পেট্রলের মিশ্রণে ভরা ছিল। সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় থাকা ১২ জনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে দুইজন জীবিত ছিলেন।
স্টিফেন সেফার্ট বলেন, নৌকার ভেতর থেকে অচেতন ব্যক্তিদের বের করতে আমাদের একটি কুড়াল দিয়ে নৌকার বেশ কিছু অংশ ভাঙতে হয়েছিল। ১২ জনের মধ্যে ১১ জন মারা যান। আমাদের ধারণা তারা গ্যাসোলিনের ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।
তিনি বলেন, যাত্রীরা সম্ভবত পেট্রল মিশ্রিত নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরে নৌকায় পানি ঢুকলে অজ্ঞান ব্যক্তিরা পানিতে ডুবে যান।
রেসকিউশিপের তথ্য অনুসারে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ৫১ জনের মধ্যে ৩০ জন বাংলাদেশি এবং বাকিরা পাকিস্তান, মিশর ও সিরিয়ার নাগরিক। নিহতদের সবাই পুরুষ অভিবাসী। প্রাথমিকভাবে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি।
লিবিয়া থেকে যাত্রা করা কাঠের নৌকাটি অভিবাসী বোঝাই ছিল। যার ফলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় লোকদের ডেকের নিচে রাখা হয়েছিল। অচেতন দুই অভিবাসীকে উদ্ধার জাহাজ নাডিরে এনে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনার দুই ঘণ্টা পর ইতালির উপকূলরক্ষীরা এসে পৌঁছায়। তারা এই দুই ব্যক্তিসহ মোট ৫১ জন উদ্ধার করে।
সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিবাসন রুটগুলোর মধ্যে একটি। যুদ্ধ এবং দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে চাওয়া অভিবাসীরা ব্যাপকভাবে এই রুট ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুসারে, গত বছর প্রায় তিন হাজার ১৫০ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যাটি ছিল দুই হাজার ৪১১ জন।