ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য সুন্দরবন

ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা 
ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৪:২১, ১৬ জুন ২০২৪
চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য সুন্দরবন
ছবি: সংগৃহীত

পাচারের নিরাপদ স্থান হিসেবে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের সীমান্ত সংলগ্ন কয়েকটি অংশকে বেছে নিয়েছে চোরাকারবারিরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সহায়তায় এই রুট ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু, মাদক, থ্রিপিস, কসমেটিকসসহ নানা পণ্য আনছে তারা। মাঝে মধ্যে দু-চারটি চালান আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন মূলহোতারা। এভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদের এ অংশটি এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন সীমান্তপথে চোরাচালানের বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি জানেন। তারপরও নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা অজ্ঞাত কারণে দিনে দিনে তা বেড়েই চলেছে। চোরাচালান পণ্যের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষ বাঁধছে। আর এসব তথ্য জানা যায় সুন্দরবন ও সংলগ্ন সীমান্তবর্তী কালিঞ্চি, গোলাখালী, কৈখালী, নৈকাটিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয়দের পাশাপাশি চোরাকারবারিদের সূত্রে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগ দিয়ে চোরাচালানের সুযোগ কম, ঝুঁকিও বেশি। তাই সীমান্তবর্তী কালিন্দি ও রায়মঙ্গল নদীকে কারবারিরা চোরাচালানের ‘মূল পয়েন্ট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

Advertisement

কালিঞ্চি গ্রামের আবুল তরফদার জানান, বন দস্যুদের উপদ্রব না থাকায় সুন্দরবনের নৌপথ চোরাচালানের জন্য নিরাপদ। এছাড়া এ রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলেরও ভয় থাকে না। এ সুযোগে ভারতীয় গরু, মাদকসহ নানা পণ্য নির্বিঘ্নে দেশে ঢুকছে। একইভাবে দেশকে থেকে ওষুধসহ নানা পণ্য পাচার হচ্ছে ভারতে।

চোরাচালানের মালামাল পরিবহনে জড়িত কৈখালীর হারুন ও মাহতাব জানান, ভারতীয় চোরাকারবারিরা গরু ও মাদকের চালান কচুখালী, বকচরা, তালপট্রি ও হোগলডুরি এলাকায় রেখে যায়। বড় চালান রায়মঙ্গল এবং ছোট চালান কালিন্দি নদী সংলগ্ন পাঁচ নদীর মোহনা দিয়ে সুন্দরবনে ঢুকে যায়। স্থানীয় চোরাচালান চক্রের সদস্যরা মাছ বা কাঁকড়া শিকারের অজুহাতে স্পট থেকে সেই চালান সংগ্রহ করে। সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো কৈখালী ও ভেটখালী সুইসগেট, আলম চেয়ারম্যান ও আব্দুর রহমানের বাড়ি ছাড়াও গোলাখালী, কালিঞ্চি এবং পশ্চিম কৈখালী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পাচার করে। এর আগে ভারতের শমসেরনগর, কালিতলা, ঘুমটে ও গোবন্দকাঠি থেকে মাদকের বস্তা এবং গরু নৌকায় উঠিয়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চোরাকারবারিতে জড়িত কয়েকজন জানান, পাঁচ নদীর মোহনা থেকে কিছুটা দূরত্বে বনবিভাগের কৈখালী স্টেশন, রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও কৈখালী বিজিবি ক্যাম্প। এই অংশ দিয়ে চোরাচালানে ঝুঁকি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই তারা চোরাচালানের কাজ করছেন। এ কাজ নির্বিঘ্ন করতে তারা ‘লাইনম্যান’ (বাধাহীনভাবে মালামাল পরিবহন)’ দেয়। তাদের গরু প্রতি পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়।

বিজিবি কৈখালী ক্যাম্পের এক কমান্ডার বলেন, এমন অনৈতিক কাজের সঙ্গে বিজিবির কোনো সদস্য জড়িত আছে, এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত কেউ করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইদুল ইসলাম বলেন, চোরাকারবারিরা আগে এই রুট ব্যবহার করলেও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে রায়মঙ্গল নদী হয়ে হোগলডুরি রুটে চলাচল করছে চোরাকারবারিরা।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, জনবল সংকট থাকায় সব সময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকা নজরদারির জন্য বিজিবি, নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী একযোগে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!