অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট অফিসের সহকারী হিসাব রক্ষক আশরাফ আলী অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চ্যানেল ফাইল নামক ঘুষ আদায়ের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দালালদের এমন দৌরাত্ম্য চলছে বছরের পর বছর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে দু-একজনকে গ্রেফতার করলেও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। পাসপোর্ট অফিসে রয়েছে অফিস কর্তৃক গ্রীন সিগন্যাল। অর্থাৎ দালালের মাধ্যমে জমা দেওয়া পাসপোর্টের আবেদন গুলোতে দেওয়া থাকে ‘বিশেষ চিহ্ন’ তথা চ্যানেল সিল মোহর।
.png)
যদিও সম্প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত সাংকেতিক স্বাক্ষর করে জমা নিচ্ছে পাসপোর্ট অফিস। কারণ হিসেবে চ্যানেল ফাইলের সিলস্বাক্ষর এরইমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছে গেছে বলে জানা যায়। চ্যানেলে জমা দিলে ঐ আবেদনকারীরা দ্রুত ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি তোলা ও পাসপোর্ট পান। এ জন্য দালালদের অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা দিতে হয় পাসপোর্ট করতে আসা সেবা গ্রহীতাদেরকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন একজন দোকানদার বলেন, সহকারী পরিচালক আইরিন পারভীন ডালিয়াকে ম্যানেজ করে আশরাফ ও তার অনুসারীরা ঘুষ আদায়ের নতুন কৌশল শুরু করেছেন। যেভাবেই আবেদন জমা পড়ুক, তাকে প্রতিটি আবেদনে ১১শ’ টাকা দিতেই হয়। অথচ নিয়ম হলো ব্যাংকে ফি জমা দিয়ে রশিদ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, চ্যানেল ফাইল প্রতি ১১শ’ টাকা সপ্তাহান্তে বুধবার সন্ধ্যায় সবার কাছ থেকে এক সঙ্গে উত্তোলন করে অফিসে বিলি বণ্টন করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, মূল ফটকের ভেতরে আবেদনকারীদের ভিড়। অনেকে আবেদন জমা দিতে ও পাসপোর্ট নিতে এসেছেন। ফটকের ভেতরে অফিস কর্তৃক নির্ধারিত দালালদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। এরপর আবেদনকারীরা সেখানে তাদের কাগজপত্র দিচ্ছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অনেককে তার কাছে আবেদন নিয়ে আসতে দেখা যায়। চিহ্নিত এক দালালকে বলতে শোনা যায়, ভাই, একজনকে পাঠালাম। দ্রুত দেইখেন।
সম্প্রতি পাসপোর্ট অফিসের ভেতর ও বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য।
জানা যায়, আশরাফ আলী নিজের ঘুষ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ায় অভিলাসে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গণমাধ্যম কর্মীদের রিকোয়েস্ট করেন। সেই সূত্রে একটি পত্রিকায় মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
তৎক্ষণাৎ আশরাফ আলী তার বহুরূপী চরিত্রের কারণে মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংদের ডেকে নিয়ে তার অফিস কক্ষে বলেন, তোমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সাংবাদিকের নাম বলে তাদের লেলিয়ে দিয়ে সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করায়। এতে কিশোর গ্যাং এবং সংবাদকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে মারমুখী হয়ে আছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলাও হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আইরিন পারভীন ডালিয়া বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দালালদের প্রবেশ নিষেধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তার বিরুদ্ধে ফাইল প্রতি ১১০০ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।