ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘরে ঝুলছিল কলেজছাত্রের মরদেহ: যা জানা গেল ফেসবুক স্ট্যাটাসে

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪০, ৭ জুন ২০২৪
ঘরে ঝুলছিল কলেজছাত্রের মরদেহ:  যা জানা গেল ফেসবুক স্ট্যাটাসে
মৃত অরণ্য মণ্ডল

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নিজ ঘর থেকে অরণ্য মণ্ডল নামে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত অরণ্য মণ্ডল উপজেলার পলাশী গ্রামের অশোক মণ্ডলের ছেলে। তার মা জোসনা মণ্ডল স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অরণ্য বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তিনি পলাশী আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন । 

এদিন তার সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়ে এ বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পড়ালেখা নিয়ে মায়ের বকুনির কারণে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

Advertisement

আত্মহত্যার আগে অরণ্য নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘অতঃপর তুমি একদিন টের পাবে, আমাকেই তোমার দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি! তুমি টের পাবে-আমার মতো ভালোবাসা কেউ দিতে পারে নাই তোমাকে! তুমি টের পাবে-এই মানুষটা থাকলে তোমার জীবনে অশান্তি আর থাকত না! তুমি বহু কিছু টের পাবে, আমার অনুপস্থিতি তোমাকে অনেক কিছু উপলব্ধি করাবে! তখন আমরা একসাথে আর থাকবো না। তুমি আমাকে আর পাবে না! আমি থেকে যাবো তোমার দীর্ঘনিশ্বাসে!’ 

তিনি আরো লিখেছেন, ‘এইভাবে কি থাকার কথা ছিলো? ছিলো না তো! একটু তোমার সাথেই তো আজীবন থাকতে চেয়েছিলাম, রাখতে পারতে চাইলেই! তখন হয়তো এতো বুঝতে চাওনি, ব্যাপার নাহ! আমিও এখন বুঝি দাম দিতে গেলে নিজের ই দাম কমে যায়!’ 

মনিরামপুর থানার এসআই প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, লেখাপড়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আছে।

জানা যায়, অরণ্য দুপুরের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে ঘর থেকে বের হচ্ছিল না। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে অরণ্যকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখেন। তখন দ্রুত দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে অরণ্যকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

স্থানীয় যুবক মাহমুদুল হাসান বলেন, অরণ্য আমাদের এলাকার ছোট ভাই। এক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের এক মেয়ের সঙ্গে তার ফেসবুকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে প্রেম হয়। মেয়েটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হলে নিজের ফেসবুকে হতাশামূলক পোস্ট দিত।’ 

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমি তাকে ডেকে বুঝিয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটির সঙ্গে অভিমানে অরণ্য আত্মহত্যা করতে পারে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!