ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
সৌরভ হত্যাকাণ্ড

‘যে ভাইকে বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, সে-ই আমার সন্তানকে হত্যা করল’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩১, ৩ জুন ২০২৪
‘যে ভাইকে বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, সে-ই আমার সন্তানকে হত্যা করল’
ওমর ফারুক সৌরভের সঙ্গে ইশরাত জাহান ইভা

আমার ছোট ভাইকে অনেক আদর স্নেহ দিয়ে বড় করেছি। সেও আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু তার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের ভালোবাসার কারণেই সব উলটপালট হয়ে যায়। অবশেষে পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে চার টুকরো করে হত্যা করা হয়।

সোমবার (৩ জুন) বিকেলে ডেইলি বাংলাদেশকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত ওমর ফারুক সৌরভের (২৪) বাবা ইউসুফ আলী।

তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী আমার ছোট ভাই; আর ভাইদের মধ্যে তাকেই আমি বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছি। সে আমার সন্তানকে না মেরে আমাকে মারত, তার কী এমন দোষ ছিল? শুধু কী আমার ছেলেই তোর মেয়েকে চার-পাঁচ বছর ধরে ভালোবেসেছে, তোর মেয়ে কী ভালোবাসে নাই। যদি তোর মেয়ে ভালো না-ই বাসত, তাহলে গত ১২ মে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় গিয়ে কেন আমার ছেলেকে বিয়ে করল?

তিনি আরো বলেন, গত ১৬ মে নিজের মেয়েকে কানাডায় পাঠিয়ে দিয়ে সৌরভকে হত্যার ছক আঁকে ইলিয়াস। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সৌরভকে কৌশলে ডেকে ময়মনসিংহে আনে, সৌরভ আমাদের কিছু না বলেই চলে আসে। পরে ওই দিন রাতে শুনতে পাই সে ময়মনসিংহে। কিন্তু রাত ১১টার পর যখন সৌরভের মোবাইল বন্ধ পাই, তখন থেকেই চিন্তা হচ্ছিল। পরে সকালে শুনি মনতলা ব্রিজের নিচে সৌরভের চার খণ্ড মরদেহ পাওয়া গেছে।

নিহত সৌরভের মা মাহমুদা আক্তার পারুল বলেন, কোনোদিন ভাবিনি যে আপন চাচা তার ভাতিজাকে এভাবে হত্যা করবে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়েই আমার সাজানো সংসার ছিল। ইলিয়াস সবকিছু এলোমেলো করে দিল।

এর আগে, রোববার সকালে সদরের সুতিয়া নদীর ওপর সেতুর নিচে একটি কালো ট্রলি ব্যাগ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ট্রলি থেকে মরদেহ ও দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এবং মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আলাদা পলিথিনে মোড়ানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত সৌরব জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারাটি গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর ছেলে। সপরিবারে ঢাকায় থাকতেন তারা। সৌরভ ঢাকার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!