সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচলের ৮ গ্রামীণ রাস্তার মধ্যে প্রায় ৬ কিলোমিটারই কর্দমাক্ত। রাস্তাগুলো দীর্ঘদিনেও পাকাকরণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার আশুতিয়া, গলাচিপা, ঠাডারকান্দা, কুড়িমারা, বাসুরচর, কাউনা ও বিশ্বনাথপুর, ধনকুড়াসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ।
কাদায় বেহাল এসব গ্রামীণ রাস্তাগুলো হলো- উপজেলার উত্তর কুড়িমারা গ্রামের আব্দুল মান্নান বিএসসির বাড়ি থেকে মাছিম মুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার, মনো মিয়ার বাড়ি থেকে খোকা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার, মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মিয়ার বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার, মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলামের বাড়ি থেকে ফজলুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের বাড়ি থেকে কাঞ্চন মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার, কোয়েদী বাড়ির মসজিদ থেকে বাচ্চু মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার, আবদুল হাইয়ের বাড়ি থেকে কাদিরের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার, কাদিরের বাড়ির মসজিদ থেকে সাবেক মেম্বার রুবেলের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা।
.png)
_1717138047.jpg)
সরেজমিনে শাহেদল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই, মো. আজহারুল ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, মো. রতন মিয়াসহ অনেকেই জানান, গ্রামীণ জনপদে চলাচলের জন্য উত্তর কুড়িমারা গ্রামের কাঁচা ঐ ৮ রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া পুলেরঘাট বাজার থেকে হোসেনপুর রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী আমতলা থেকে কাউনা বাজারগামী ইলিম পরদানীর বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচলকারী আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে ঐ রাস্তাগুলো। এসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পাশের আরো ১০ গ্রামের লোকজন উত্তর এবং দক্ষিণ কুড়িমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামী ফাউন্ডেশন মাদরাসা, আঞ্চলিক পোস্ট অফিস ও স্থানীয় চারটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তি নিয়ে যেতে হচ্ছে পথচারীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার উত্তর কুড়িমারা গ্রামের ঐ ৮ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউই কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ঐসব রাস্তায় মারাত্মক কাদার সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ১০ গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই এ ভোগান্তি যেন আরো বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ঐসব কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটেছে। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
কিশোরগঞ্জের জেলা পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ আলম এবং স্থানীয় শাহেদল ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, উত্তর কুড়িমারা গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী গ্রামীণ ঐ ৮ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এসব রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি স্থানীয় এলজিইডি অফিস থেকে খুব শিগগিরই রাস্তাগুলোর সার্ভে কার্যক্রম সম্পন্ন করে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।