ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৪:০৬, ৩০ মে ২০২৪
শিক্ষক সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান
আখাউড়ায় রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার অতি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ কর্মচারী সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মচারী ২৬ জন থাকার কথা থাকলে শূন্য রয়েছে ১৪টি পদ। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালিতে চলছে পাঠদান। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে সুদীর্ঘ বছরের। এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভালো হওয়ায় সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পড়াশোনার মান হ্রাস পাওয়ায় হারাতে বসেছে সুনাম। পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। 

Advertisement

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ১১৩০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অন্যান্য কর্মচারী খুবই অপ্রতুল। অবসরে চলে যাওয়া, বদলিসহ নানা কারণে এ সংকট চলছে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অন্যান্য পদে ২৬ জনের মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এখন ১২ জন দিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এরমধ্যে ৮ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়ে শূন্য পদগুলোর মধ্যে সহকারী শিক্ষক ছয়জন, সহকারী শিক্ষক কমম্পিউটার একজন, উচ্চমান সহকারী একজন, লাইব্রেরিয়ান একজন, লাইব্রেরিয়ান সহকারী একজন, ভার্নাকুলার একজন, দফতরি একজন, আয়া একজন ও নিরাপত্তা প্রহরী একজন রয়েছে।  

অভিভাবক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এক সময় এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান খুবই ভালো ছিল। গোটা উপজেলার মধ্যে এ বিদ্যালয়ের সুনাম ছিল সবার মুখে মুখে। প্রতিযোগিতা করে ছেলে-মেয়েদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হতো। কিন্তু এখন শিক্ষক স্বল্পতার কারণে দিনদিন পড়াশোনার মান নিম্নমুখী হওয়ায় সুনাম নষ্ট হতে চলছে।

অভিভাবক মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, বহু কষ্টে ছেলেকে এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান তেমন হচ্ছে না। তাছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ার বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে। শিক্ষক সংকটসহ এ অবস্থায় ছেলের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিতায় আছি।

শিক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে বেশিরভাগ সময় ক্লাস হয় না। তাছাড়া নতুন কারিকুলামের বই হওয়ায় দক্ষ শিক্ষকের অভাবে আমরা পড়াশোনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছি। এতে আমাদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষার্থী মো. রনি বলেন, আমার বড় দুই ভাই এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। তাদের কাছ থেকে শুনেছি এই বিদ্যালয়ের সুনামের কথা। তাদের পছন্দেই আমি এখানে ভর্তি হই। কিন্তু নতুন কারিকুলাম ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবে আমাদের পড়াশোনা দিনদিন কঠিন হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষক সংকট হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ প্রশাসনিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, কয়েক বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। ইংরেজি, গণিতসহ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকায় কষ্ট করে পাঠদান করাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অনেক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!