ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঝড়ের রাতে মৃত্যু: দুই দিন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় মরদেহ

বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৪, ৩০ মে ২০২৪
ঝড়ের রাতে মৃত্যু: দুই দিন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

রোববার রাতে মারা যান বৃদ্ধা উরফুল বেগম। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানে উপকূলে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পানেনি ছেলে। মায়ের মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েন ছেলে। এরপর গ্রাম-পুলিশের সহায়তায় মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় দুদিন। বুধবার (২৯ মে)  হাঁটু পরিমাণ পানির মধ্যেও কাঠের বাক্সে ভরে দাফন করা হয় তাকে। 

ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারুইখালী ইউনিয়নের পায়রাতলা গ্রামে। বৃদ্ধা উরফুল বেগম ওই গ্রামের হোসেন আলী হাওলাদারের স্ত্রী। 

জানা যায়, উরফুল বেগমের ৭ ছেলে ও ৩ মেয়ে। তারা সবাই জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকেন। বাড়িতে শুধু দেলোয়ার হাওলাদার নামে এক ছেলে থাকেন। বুধবার দাফনের দিনেও তার সব ছেলে-মেয়েরা এসে উপস্থিত হতে পারেননি। 

Advertisement

উরফুল বেগমের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, রোববার রাতে মা মারা যায়। তখন প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। কোথাও যাব, পানির জন্য সেটাও পারিনি। পরে প্রতিবেশী গ্রাম-পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখি। একটু পানি কমছে, বড় কষ্টে মাকে মাটি দিয়েছি।

বারুইখালী ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য হালিমা বেগম বলেন, ওই নারী মারা গেছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম দিনে। খবর পেয়ে গ্রাম-পুলিশ ইউনুস আলী হাওলাদারের সহায়তায় মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শরণখোলায় প্রচুর পানি ওঠে। আমাদের এখানে একটি সরকারি খাল আছে, সেখানে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি কোথাও নামতে পারেনি। পানির জন্য দাফন দিতে পারেনি।  

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার গোসল করিয়ে বরফ দিয়ে রেখে দিয়েছিল। একটু পানি নামার পর সকালে দাফন করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!