ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভূতুড়ে উপকূলে মোমের আলোই ভরসা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:১৬, ২৭ মে ২০২৪
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভূতুড়ে উপকূলে মোমের আলোই ভরসা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুয়াকাটা সংলগ্ন দক্ষিণ উপকূলে থেমেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। তবে এর আগে রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন। রোববার সকাল থেকে লাগাতার রেমাল তাণ্ডবে অন্তত ৭ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে নিরাপদে আশ্রয় নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন।

এই উপকূলে টানা কয়েক দফা উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ভেসে গেছে শতাধিক ঘেরের মাছ। একইসঙ্গে  প্রবল জলচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত অনেক মানুষের আশ্রয়স্থলসহ আসবাবপত্র।

এছাড়া দানবীয় বায়ু চাপের প্রভাবে বন্দর থেকে গ্রামীণ সড়কগুলোতেও উপরে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ছিড়ে গেছে বৈদ্যুতিক তারসহ ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্যাবল পর্যন্ত। ফলে গোটা দক্ষিণ উপকূলই এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত।

Advertisement

সোমবার বিকেল থেকে প্রকৃতি কিছুটা শান্ত মেজাজে থাকলেও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভূতুড়ে জনপদে পরিণত হয়েছে এ উপকূল । তবে দুদিন বন্দীদশায় থাকা অনেক জেলেবধূর উনুনে হাঁড়ি ওঠেনি লাগাতার ঝড়ে। আর পানি বন্দী হাজারো মানুষ  দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভেজা কাঁথা-বালিশে মাথা রেখে।

এদের মধ্যে অনেক পরিবারই রেমালের নিষ্ঠুর ছোঁবলে সব হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলছেন, প্রকৃতির এমন রুদ্ররুপ আগে কখনোই দেখেননি তারা। একটানা দু'দিনের বিধ্বংসী এই ঘূর্ণিঝড় বদলে দিয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের পূর্বের সকল অভিজ্ঞতা। 

দু'দিন বন্দীদশায় থাকার পর সোমবার সন্ধ্যায় আশ্রয়ণ কেন্দ্র থেকে নিজ বসতির খবর নিতে বাড়ি ফিরেছেন অনেকে। আর অতি প্রয়োজনীয়তার তাগিদে বন্দরমুখী হচ্ছেন অনেক বন্যাকবলিতরা। এসব বন্দরে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ছোট চায়ের দোকান ঘরে মোমের আলো জ্বালিয়ে ক্ষয়ক্ষতির তিক্ত অভিজ্ঞতার জানান দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

তারা বলছেন, ভূতুড়ে অলিতে গলিতে মোমের আলোই এখন শেষ ভরসা। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব পড়তির দিকে হলেও বাতাসের শো শো শব্দ লক্ষনীয়। আর রাত গভীর হলে জোয়ারের পানি প্রবাহের আতঙ্ক এখন উপকূলের মানুষের কাছে ছাপিয়ে যাচ্ছে সব সব চিন্তা।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করে দূর্বল হয়ে বর্তমানে নিম্নচাপে পরিণত হলেও জলোচ্ছ্বাস আতঙ্কে রয়েছেন সাগর তীরবর্তী দক্ষিণ উপকূলের বাসিন্দারা। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উপরওয়ালার ইচ্ছায় বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করছি।

তিনি আরো বলেন, কিছু মানুষ ঘরে ফিরেছেন। অনেকেই সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য খাবার এবং সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পানিবন্দী মানুষের খোঁজ নেয়া হয়েছে। এই উপকূলে বন্যাকবলিত ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!