ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করল চসিক, ৮১ প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ২৬ মে ২০২৪
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করল চসিক, ৮১ প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র
চসিকের জরুরি সভা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে আগামীকাল সোমবার (২৭ মে) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে চসিকের ৮১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার হবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে।

রোববার (২৬ মে) চসিক কার্যালয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এক জরুরি প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, সোমবার চসিকের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চসিকের ৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

Advertisement

তিনি বলেন, শনিবার সকালেই ঝুকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছি। দামপাড়ার চসিকের বিদ্যুৎ উপ-বিভাগ কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে তদারক করতে নির্দেশ দিয়েছি।

মেয়র বলেন, চসিকের সবগুলো বিভাগ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সক্রিয় আছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্টও সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করবো, ঝড়ে গাছ পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে কোনো সংস্থার গাফিলতির জন্য মানুষ কষ্ট না পায়।

পাহাড়ের পাদদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা নাগরিকদের সরিয়ে নিতে কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান- আপনারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

এ সময় ঘূর্নিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে মেয়রকে অবহিত করেন কাউন্সিলররা। 

সভায় চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা জানান, কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে তিন শিফটে তিনটি মেডিকেল টিম ২৪ ঘন্টা সক্রিয় থাকবে। এছাড়াও ছয়টি উপকূলীয় ও পাহাড়সমৃদ্ধ এলাকার জন্য স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা লতিফুল হক কাজমি জানান, বৃষ্টির পানি যাতে নালায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য ৪১টি ওয়ার্ডে ছোট ছোট টিম গঠন করে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চলছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল বারী জানান, দুর্যোগে নগরীর বিদ্যুতায়ন ও আলোকায়ন অব্যাহত রাখতে চসিকের গঠিত রেসকিউ টিম সক্রিয় রয়েছে। 

সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি আবদুল জব্বার জানান, শনিবার সকাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়াররা চসিকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। এছাড়া সরকারের গাইডলাইন বাস্তবায়নে কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

সভায় চসিকের প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালামসহ অন্যান্য কাউন্সিলর এবং বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!