রোববার (২৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খোলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২৫ মে) রাতে চট্টগ্রামে ৭৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি এক হাজার ১৪০টি বিদ্যালয় ও নয়টি মুজিব কেল্লা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
.png)
শনিবার ৭৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ছিল। পরে আজ রোববার আরো ২৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে বলে জানান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা। এখন মোট আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৩৪টি। এছাড়া এক হাজার ১৪০টি বিদ্যালয় ও নয়টি মুজিব কেল্লা ব্যবহার হবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে।
শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কর্তৃক ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০০টি, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি, আর্বান ডিসপেন্সারি নয়টি এবং পাঁচটি জেনারেল হাসপাতালসহ মোট ২৯৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মজুত রাখা হয়েছে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য প্রায় তিন লাখ ট্যাবলেট ও চার লাখ খাবার স্যালাইন।
কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও সন্দ্বীপ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে চট্টগ্রামে ব্যাপক বর্ষণ ও পূর্ণিমার কারণে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকায় উপকূলবর্তী এলাকাসমূহ ও পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকজনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং এসিল্যান্ডদের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, মোমবাতি, ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র ও ব্যবহার উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়।
মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সকলকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আট হাজার ৮৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। রেড ক্রিসেন্টের পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও বিএনসিসি ও স্কাউটের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে হয়ে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে; যার নম্বর- ০২৩৩৩৩৫৭৫৪৫।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জেলা পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকায় অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে উপজেলাসমূহে অবস্থিত ডাকবাংলো ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাপবিদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
রোববার আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১০ এ এসব তথ্য জানানো হয়।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৯ দশমিক ৫০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ দশমিক ৪০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি আজ (রোববার) সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (রোববার) সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাত নাগাদ মোংলার কাছ দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আট থেকে ১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।
অতিভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।