তাজিমারখোলা ক্যাম্প ১৩, কয়েকটি ব্লকের সমন্বয়ে এই ক্যাম্প। রয়েছে ৫ হাজারের বেশি বসতি। কিন্তু শুক্রবারে ৫ ঘণ্টার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৩ শতাধিক বসতি। একইসঙ্গে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২ শতাধিক বসতি আর অর্ধ-শত দোকানপাট।
মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে। ক্যাম্পে খুনোখুনি পাশাপাশি নাশকতার চেষ্টা করছে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠনের গ্রুপগুলো। এরই মধ্যে কয়েক দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে পাহাড়ে মজুত করা মিয়ানমারের ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার করেছে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সদস্যদের।
.png)
চারদিকে পাহাড় আর সরু রাস্তা, নেই পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ। এমন ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। যা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের সময় লাগে ৫ ঘণ্টা। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক অতীশ চাকমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে। মূলত এটা কি লাগিয়ে দেওয়া আগুন নাকি নিছক দুর্ঘটনাবশত তা তদন্তের মাধ্যমে বলা যাবে। তদন্ত কমিটি ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণও নির্ধারণ করবে।
এদিকে ক্যাম্প-১৩ তে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা বলছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। তাদের দাবি; নাশকতার উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে।
ক্যাম্প-১৩ বি-ব্লকের বাসিন্দা ইলিয়াছ বলেন, বাইরের লোক এসে আগুন ধরিয়ে না দিলে কীভাবে আগুন ধরলো। আরসা সন্ত্রাসীরাই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এরা সাধারণ রোহিঙ্গাদের কষ্ট দিচ্ছে, এরা ছাড়া আর কেউ আগুন দেয়নি।
ক্যাম্প ১৩ এর বাসিন্দা আনাছ বলেন, ক্যাম্পে অনেকগুলো গ্রুপ আছে। এই গ্রুপের সদস্যরাই ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
একই ক্যাম্পের বাসিন্দা করিম উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আল ইয়াকিন। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন খোলা আকাশের নিচে ৪ হাজার রোহিঙ্গারা। নেই পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা ও বিশুদ্ধ পানি। যার কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছে রোহিঙ্গারা।
ইছহাক বলেন, বসতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কিছুই বের করতে পারেনি। এখন তীব্র গরম পড়ছে, মাথায় দেওয়া মতো ত্রিপলও নেই।
রহিম বলেন, আমরা খোলা আকাশের নিচে খুবই কষ্ট পাচ্ছি। ছোট বাচ্চাদের কষ্ট আরো বেড়ে গেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন জানিয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে দ্রুত উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে বসতি থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্য সহায়তা করা হবে।