ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অবৈধ অটোরিকশার দাপটে কিশোরগঞ্জ শহরে তীব্র যানজট

আশরাফুল ইসলাম তুষার, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৫:২৪, ২৩ মে ২০২৪
অবৈধ অটোরিকশার দাপটে কিশোরগঞ্জ শহরে তীব্র যানজট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মিশুক, ইজিবাইকের দাপটে দিশেহারা শহরবাসী। লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা ও অদক্ষ চালকদের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।

কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন। দিন দিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (ইজিবাইক) শহরে পরিণত হচ্ছে কিশোরগঞ্জ।

শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, পাড়া-মহল্লা সবখানেই চলছে ব্যাটারিচালিত হাজার হাজার অটোরিকশা। এই যানবাহনগুলোর নেই পৌরসভার অনুমোদন। এসব বাহনের কারণে শহরে যানজট দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

Advertisement

পৌর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে প্রতিদিন অনুমোদনহীন এসব ইজিবাইক-অটোরিকশা শহরে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শহরে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে প্রায় প্রতিদিনই বেশকিছু অটোরিকশা ও মিশুক আটকও করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু রেকার বিলের নামে এক হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা রেখে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে মূল শহরে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।

শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়েই রয়েছে মূল সড়কের ওপর এসব বাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের নীরব ভূমিকা দেখা গেছে।

সরেজমিন আরো দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় দিব্যি চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা। শহরে বিশৃঙ্খলভাবে শত শত যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা মানুষ চলাচলেরও সুযোগ থাকছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, এসব যানবাহনের কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। যোগাযোগের এসব ক্ষুদ্র যান মানুষের চলাচলে সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও বেপরোয়া চালকদের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে এসব যানের হর্নের কারণেও সাধারণ জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

কয়েকজন পথচারী বলেন, রাস্তায় বের হয়ে অটোরিকশা-ইজিবাইকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেনি এমন লোক পাওয়া যাবে না। প্রতিটি সড়কেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় চালকরা। সড়কের ওপর মিশুক, ইজিবাইক রেখে দেওয়া হয়। ফলে পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এসব যানবাহনের কারণে শহরে যানজট লেগেই থাকে।

জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আহমাদ ফরিদ বলেন, নম্বরপ্লেটবিহীন এসব অটোরিকশা-ইজিবাইকের আধিক্যের কারণে একদিকে যেমন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, অপরদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শহরভিত্তিক যদি অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাহলে যানজট অনেকটাই কমবে।

কিশোরগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক শাহজাহান জানান, ইজিবাইকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবং অদক্ষ চালকের কারণে যানজট বৃদ্ধি পায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকরা ইজিবাইক চালালে যানজট ও দুর্ঘটনাও কমবে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পারভেজ মিয়া জানান, শহরে ইজিবাইক চলাচল নিয়ে আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন হলে যানজট নিরসন হবে বলে আশা করি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!