পরিবার ও থানা সূত্র জানায়, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আলী হোসেনের সাথে পাঁচ বছর পুর্বে একই উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের খালেকের মেয়ে আমেনা খাতুনের সাথে বিবাহ হয়। পাঁচ বছরে তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুটি ছেলে সন্তান, যাদের নাম আবু বকর সিদ্দিক (৪) আনাস (২)। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে চলে অভাব অনটন।
পাষন্ড স্বামী আলী হোসেন স্ত্রী আমেনাকে দিয়ে বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে ঋনের টাকা উত্তোলন করান। ওই ঋনের কিস্তির টাকার জন্য প্রায় সময় স্ত্রীকে চাপ দিত পাষন্ড স্বামী। গত ১৬ মে কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। ১৭ মে গার্মেন্টসে চাকুরীর কথা বলে পাষন্ড স্বামী স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তাদের সাথে আর কারো যোগাযোগ হয়নি।
.png)
মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামের হাইঞ্জা মড়লের বাড়ির দক্ষিণ পাশেই একটি মসজিদের ১০/১২ গজ পশ্চিমে ধান ক্ষেতের আইল ঘেঁষে একটি ঝোপের মধ্যে গর্ত করে আনুমানিক ৫/৬ দিন আগে পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রী ও দুই শিশু পুত্রকে হত্যা করে তাদের মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রেখে গা ঢাকা দেয়।
ঘটনাস্থলের দুই-তিনশ মিটার দুরে স্থানীয় সোহরাব নামে এক ব্যক্তি কাজিগ্রামের রাস্তার পাশে মাংশসহ একটি হাত দেখতে পান। কিন্তু ওই হাত কোথা থেকে এলো খোজ করতে গিয়ে ওই গর্ত থেকে এক শিশুর মরদেহ টেনে বের করে শিয়াল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার ও জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার শামীম হোসেনসহ ত্রিশাল থানা পুলিশ ও র্যাবের একটি টিম।
টানা ৫ দিন লাশগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় পচে গিয়েছিল। অনেকে দেখতে আসলেও কেউ তাদের চিনতে পারছিলোনা। অবস্থা ছিল না ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার। এরপর সিআইডি, পিবিআই ও ত্রিশাল থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত ৯ টার দিকে পরিচয় মেলে নিহতদের। রাতেই ওই ঘটনায় নিহত আমেনার মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো অধরা পলাতক হত্যাকারী পষন্ড স্বামী।
যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন, স্থানীয় আব্দুল হামিদের ছেলে আলী হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩০), তার শিশু ছেলে আবু বকর (৪) ও আনাস (২)। স্থানীয়রা জানায় সে পুর্বে আরেকটি বিয়ে করে সেই স্ত্রীকেও হত্যা করে ৭ বছর কারাভোগ করে।
ত্রিশাল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, সম্ভবত সপ্তাহখানেক আগে ওই নারী ও দুই শিশুকে হত্যা করে মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও তাদের হত্যার পর নীরব ঝোপ ঝারে মরদেহ এখানে এনে পুঁতে রাখা হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।