সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া।
তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধান কার্যালয়ে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেন। এরই ধারাবাহিককতায় দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তারা এই অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ (পুরুষ ও মহিলা), নেফ্রোলজি বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, পথ্য বিভাগ ও রক্ত সঞ্চালন বিভাগে অভিযান চালান।
.png)
অভিযান শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলীর কার্যালয়ে দুদকের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া জানান, আমরা হাসপাতালে এসে বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনকালে আমরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড অপরিছন্ন দেখতে পেয়েছি। সেইসঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুমগুলো ছিলো ব্যবহার অনুপযোগী, রক্ত সঞ্চলন বিভাগে শৃঙ্খলার অভাব, প্যাথলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিপোর্ট দেওয়া হয়, নার্স ও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। হাসপাতালে দালালদের অবাধ বিচরণ, পরিষ্কার পরিচ্ছনতার অভাব। তবে তিনি পথ্য বিভাগে গিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দুদকের উপ-পরিচালক বলেন, আমরা আরো কিছু অনিয়ম পেয়েছি। সেটা আমরা আমাদের প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানাবো। তবে হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানোর জন্য পরিচালককে আমরা বলেছি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারের কাছে আমরা জনবল চেয়েছি। আমাদের যে জনবল আছে তা দিয়ে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। তারপরেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালের অচল যন্ত্রপাতিগুলো চালু রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আমাদের আরো কিছু নতুন যন্ত্রপাতি এসেছে। সেগুলো পেলে আমরা রোগীদের পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারবো বলে আশা করি। আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের যে সংকটগুলো আছে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।