নিহত ফয়জুল্লাহ আকন্দ সোনাতলা উপজেলার মধ্য দিঘলকান্দি গ্রামের মৃত সমসের আকন্দের ছেলে। ফয়জুল্লাহ কৃষিকাজ করতেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, ফয়জুল্লাহ আকন্দের স্ত্রী আমেনা বেগম ছেলের বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে কয়েক দিন আগে বাবার বাড়ি শিহিপুর গ্রামে চলে আসেন। শনিবার সন্ধ্যায় ফয়জুল্লাহ আকন্দ স্ত্রীকে বাড়িতে আনার জন্য শিহিপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি ফেরা নিয়ে ফয়জুল্লাহর সঙ্গে স্ত্রী আমেনা বেগম ও আমেনা বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী আনু বেগমের ধস্তাধস্তি হয়। এতে ফয়জুল্লাহ মাটিতে পড়ে মারা যান। এ সময় বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় ভয় পেয়ে যান আমেনা বেগম ও আনু বেগম। তারা দুজন পরামর্শ করে মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য ব্লেড দিয়ে ফয়জুল্লাহের গলায় সামান্য কেটে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ফয়জুল্লাহের লাশ হেফাজতে নেয় এবং আমেনা বেগম ও আনু বেগমকে আটক করে।
.png)
রোববার সকালে সরজেমিনে বাড়িতে গেলে নিহতের ভাতিজা আহাজারি করতে করতে জিয়াউর বলেন, আমার চাচাকে তার বউ ও তার সম্বন্ধীর বউ মিলে মেরে ফেলেছে। এখন তারা তার গলা ব্লেড দিয়ে কেটে আত্মহত্যার কথা বলে চালাতে চাচ্ছে। আমার চাচা কেন আত্মহত্যা করতে যাবে এই বয়সে। এগুলো আমার চাচির (নিহতের স্ত্রী) কাজ। আমরা এর বিচার চাই।
রোববার দুপুর ১টায় ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে এলে দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান নিহতের স্বজনরা।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি বাবু কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনায় রোববার নিহতের বড় ছেলে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, নিহতের স্ত্রী আমেনা বেগম (৫০) ও আমেনা বেগমের ভাই দুলা মিয়ার স্ত্রী আনু বেগম (৪০)।