ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুরির অপবাদে দুই শিশুর মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে পাশবিক নির্যাতন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১৮ মে ২০২৪
চুরির অপবাদে দুই শিশুর মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে পাশবিক নির্যাতন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আপনার পায়খানা খাবো, আপনি যা বলবেন তাই করবো, আমরা চুরি করিনি, আমাদের ছেড়ে দিন’, এভাবেই আসিফ (৮) ও শরিফুল (৯) নামে দুই নির্যাতিত শিশু বাঁচার আকুতি জানালেও কানে নেয়নি সাগর ভ্যান্ডার নামে এক যুবক। তারপরেও সুপারি চুরির সন্দেহে তাদের বেধড়ক পিটিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ মে) রাতে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের ওকড়াবাড়ির খামারবাড়ি এলাকায়।

এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশু আসিফের মা আসমা বেগম লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Advertisement

নির্যাতিত শিশু আসিফ ঐ এলাকার মোশারফ হোসেন ও শরিফুল একই এলাকার আমিনুর ইসলামের ছেলে। তারা দুইজনেই হারাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত সাগর ভ্যান্ডার ঐ এলাকার মৃত আইয়ুব আলী ভেন্ডারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলের দিকে আসিফ ও শরিফুল ওকড়াবাড়ি বাজার সংলগ্ন তাদের নিজ এলাকায় খেলা করছিলো। এ সময় সাগর ভ্যান্ডার সুকৌশলে শিশু আসিফ ও শরিফুলকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাদের একটি ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের দুজনকে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে পরে সেখান থেকে তাদেরকে সাগর তার বাড়িতে নিয়ে হাত দিয়ে বেধড়ক কিল-ঘুষি মারার পর বাড়িতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। তাতেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত সাগর।

এ সময় দুই শিশু আসিফ ও শরিফুল তার পায়ে ধরে বাঁচার আকুতি করে বলে, ‘চাচা আপনার পায়খানা খাবো, আপনি যা বলবেন তাই করবো, আমাদের আর মারবেন না, এভাবে মারলে আমরা মরে যাবো চাচা, আমাদের ছেড়ে দিন চাচা, আমরা আপনার সুপারি চুরি করি নাই চাচা’।

তবুও তার মনে কোনো দয়া-মায়া আসেনি। পরে সে দুই শিশুকে হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা ও স্কচটেপ লাগিয়ে মোটরসাইকেলের রডের তালা দিয়ে পেটাতে থাকেন। একসময় ঐ দুই শিশু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়। পরে অভিযুক্ত সাগর তাদের অবস্থা বেগতিক দেখে সটকে পড়েন।

এদিকে, এলাকাবাসী শিশু দুটিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহত দুই শিশু লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সদর হাসপাতালে গেলে শিশু আসিফ জানায়, ‘আমরা দুজনেই ৩য় শ্রণিতে পড়ি। আমরা কোনো সুপারি চুরি করি নাই। কিন্তু সাগর আমাদেরকে কায়দা করে তুলে নিয়ে যায়। আমি মাইর সহ্য করতে না পেরে তাকে বলেছি- আমি আপনার পায়ে পড়ি, আপনার পায়খানা খাবো, তবুও আমাদের ছেড়ে দিন।’

আরেক শিশু শরিফুল জানায়, ‘আমাদের গলায় ছুরি রেখে আমরা সুপারি চুরি করেছি স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আমরা তো চুরি করি নাই। গরিব বলে আমরা কি মানুষ নই? আমরা এর বিচার চাই।’

আসিফের মা আছমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার শিশু সন্তানের ওপর এই পাশবিক নির্যাতনের সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাগরকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে ফোন কেটে দেন এবং তার ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!