ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আমেরিকায় কৃষিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়েছেন লক্ষ্মীপুরের দম্পতি

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ১৬ মে ২০২৪
আমেরিকায় কৃষিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়েছেন লক্ষ্মীপুরের দম্পতি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শিল্পোন্নত দেশ আমেরিকায় কৃষি খামার ও কৃষিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের মনির হোসেন দম্পতি। মনির হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার টুমচর গ্রামে।

ক্ষেতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শশা, খিরা, কচুশাক, বাঁধাকপি আর শিম। ঘরের বাইরে শত ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ও খরগোশ। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন বাংলাদেশের কোনো ফসলী মাঠের পাশে কৃষকের বাড়ি। কিন্ত না এ ছবি শিল্পোন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি এলাকার ‘মাহিন এগ্রো’ নামের একটি কৃষি খামারের।

মনির যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কনজিউমার এ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন ডিপাটমেন্টের ইন্সপেক্টর। তার স্ত্রী ফারহানা হক শিমু ইউনাইটেড স্টেট পোস্টাল সার্ভিসের অফিসার।

Advertisement

চাকরির পাশাপাশি আমেরিকায় কৃষি ও কৃষিভিত্তিক ট্যুরিজমে সফলতার মুখ দেখছেন এ বাঙালি দম্পতি। শখের কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপ দিতে আমেরিকার কৃষিতে ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মনির হোসেন দম্পতি। এ দম্পতির ছোট ছেলে মাহিনের নামানুসারে খামারটির নাম রেখেছেন ‘মাহিন এগ্রো’। খামারটি এখন আমেরিকার বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির কাছে একটি জনপ্রিয় নাম।

‘মাহিন এগ্রো’ নামের কৃষি খামারটির অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নিকটবর্তী বিংহ্যামটন এলাকায়। খামারের মোট জমি এক হাজার ৬০ শতক।

মনির হোসেন জানান, তাজা শাক-সবজি, হালাল মাংস এবং অবসর সময় কাটাতে মাহিন এগ্রো এখন বাঙালি আমেরিকানদের কাছে খুবই জনপ্রিয় স্থান। প্রতিদিন আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাঙালিসহ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্মের লোক ছুটে আসছে এ খামারে। খামারেই বসছে শাক-সবজি, বীজ ও পশু বিক্রির হাট। চলছে বাংলাদেশের মতো পিকনিক। শাক-সবজি ও পশুপাখির খামারটি ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রম কৃষি ট্যুরিজম। খামার দেখতে আসা ও পিকনিকে আসা মানুষ খামারের শাক-সবজি ও পশুপাখি কিনে নিচ্ছেন। খামারটিতে রয়েছে ১৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি পুকুর। আগামী বছর চাষ হবে বাংলাদেশের মাছ। পুকুরে ভাসছে নৌকা।

মনির হোসেন আরো জানান, চাকরির মাঝে অবসরে শখের বাগান করতে গিয়ে স্ত্রী ফারহানা হক শিমু হাত ধরেই আমেরিকার মাটিতে এখন ফলছে বাংলাদেশি নানা শাক-সবজি। বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে সেগুলো। মাহিন এগ্রো খামারে উৎপাদিত বাংলাদেশি মিষ্টি কুমড়ো, খিরা, শসা আমেরিকানদের মন জয় করে ফেলেছে। শাকসবজির পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ রয়েছে। খামারটি আমেরিকান মুসলিমদের জন্য শতভাগ হালাল মাংস উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছর থেকে বাংলাদেশ থেকে বীজ আমদানি করে তিনি আমেরিকান কৃষকদের কাছে বাংলাদেশি বিভিন্ন শাক-সবজির বীজ বিক্রয় করছেন। আমেরিকান কৃষকরা আমাজন, ইবে এর মতো মার্কেট থেকে তার বীজ কিনছেন। বর্তমানে তিনি ৩৭ রকমের শাক-সবজির বীজ বিক্রয় করছেন।

আমেরিকান কৃষি খামার ও কৃষি ট্যুরিজম নিয়ে মোবাইল ফোনে মনির হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। এমন বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাবিশ্ব থেকে সবধরনের শাক-সবজি আমেরিকায় আসে। কিন্তু সেসব শাক-সবজিতে কোনো স্বাদগন্ধ পাই না। নিউইয়র্ক সিটিতে আমার মতো যত বাঙালি রয়েছে সবাই বাংলাদেশি শাক-সবজি ও মুসলিম হালাল মাংস চায় কিন্তু পায় না। এসব ভেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালিদেরকে আমাদের দেশের শাক-সবজি ও গৃহপালিত পশুপাখির মাংসের স্বাদ দিতে গড়ে তুলেছি মাহিন এগ্রো নামের এ খামার।

মনির হোসেনের এমন উদ্যোক্তার বিষয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমি খামার শুরু করি। মাত্র অল্প সময়ে আমেরিকার মাটিতে বাংলাদেশি ফসলের ফলন দেখে আমরা হতবাক! যা লাগিয়েছি প্রচুর হচ্ছে। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শাক-সবজি উৎপাদন করা যায়। উৎপাদিত ফসলগুলো খামারে বেড়াতে এসে অনেকে নিজে এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য কিনে নিচ্ছেন। অবশিষ্ট সবজি নিউইয়র্ক সিটিতে লোকাল গ্রোসারিতে সরবরাহ করে থাকি।

আমার খামারে বর্তমানে ২০ জন কর্মচারীর কাজ করতে পারবে। তবে আমরা স্বামী-স্ত্রী ও চারজন অস্থায়ী কর্মচারী কাজ করি। আমার বাসস্থান এবং কর্মস্থল থেকে ২৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রতিদিন খামারে কাজ করি। তবুও ভালো লাগে, যোগ করেন মনির হোসেনে।

খামারে পশুপালনের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, আমেরিকায় মুসলিমদের জন্য হালাল মাংস ও কোরবানির পশু সংগ্রহ করা বিরাট চ্যালেঞ্চ। সে কারণে আমার খামার মাহিন এগ্রোতে শাক-সবজির পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ রয়েছে। গত কোরবানিতে ১০০ ছাগল বিক্রি করেছি। অনেকে খামারে পিকনিক করতে এসে ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, টার্কি ও খরগোশ কিনে নেন। আবার কেউ কেউ খামারে জবাই করে টাটকা মাংস নিয়ে যান। খামারটি হতে যাচ্ছে এদেশের মুসলিমদের জন্য শতভাগ হালাল মাংস উৎপাদন কেন্দ্র।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!