মাগুরার মালঞ্চ, শ্যামনগর, বাগডাঙ্গা, মৃগিডাঙ্গা, বাঁশকোঠা, কুচিয়ামোড়া, আসবা, বরইচারাসহ বিভিন্ন এলাকার নমঃশুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন স্থানে দলে দলে অষ্টক গান পরিবেশ করতেন এবং অষ্টক গানের জন্য তাদের বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু সেইসব সোনালী দিনগুলো এখন কেবলই ইতিহাস। কালের আবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে অষ্টক গানের লেখক এবং গানের দলগুলো। প্রবীণেরা নেই বললেই চলে আর এই প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপকভাবে পেশা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত পেশা পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক কষ্ট। যে কারণে যুগ যুগ ধরে গ্রাম-বাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম অষ্টক গানের দলগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। অষ্টক গান এক সময় ছিল মাগুরার একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সাংস্কৃতি।
নবগঙ্গা সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি কবি ও প্রবন্ধকার বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন, সাধারণত অষ্টক গানের বিষয়বস্তু ছিল রাধা-কৃষ্ণ, শিব-দুর্গা, রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী ছাড়াও পণপ্রথা, সাম্প্রদায়িক প্রসঙ্গ, কৃষি সমস্যা, বৃক্ষ রোপণ এবং সমাজের অসঙ্গতি বা শিক্ষামূলক প্রভৃতি বিষয়ে। অষ্ট সখীসহযোগে এ গান পরিবেশিত হয় বলে একে অষ্টক গান বলা হয়ে থাকে। এটি একটি গোষ্ঠীবদ্ধ নৃত্যসহ সাঙ্গীতিক পরিবেশনা। সামনে অষ্ট সখী এবং পেছনে হারমোনিয়াম, বেহালা, বাঁশি, কাসি, ঢোল, কর্তালসহযোগে এ গান পরিবেশিত হয়। অষ্টক গান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।
.png)
মাগুরা ইতিহাস ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা গবেষক ডাক্তার কাজী তাসুকুজ্জামান বলেন, এক সময় গ্রাম-বাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই অষ্টক গান। শ্যামনগর, বাঁশকোঠা, আসবা, বরইচারা, কুচিয়ামোড়া, হাটবাড়িয়া, বাউলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নমঃশুদ্র সম্প্রদায় লোকসংস্কৃতির এ ঘরনাকে লালন করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার অষ্টক গান। আমাদের আগামী প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী এ অষ্টক গানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং অষ্টক গানকে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।