জানা গেছে, মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার সব মেয়ের জামাই শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় ঘুরতে আসেন জামাইরা। তারাই এ মেলার মূল আকর্ষণ। মেলার দিন শাশুড়ির দেওয়া টাকায় জামাই বাজার করে শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান। এ কারণেই মেলাটি জামাইমেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জামাইকে মেলা উপলক্ষে বরণ করে নেয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরা বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকেন। জামাইরাও প্রতি বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন। একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়ে তারাও আনন্দে মেতে ওঠেন। প্রতিবছর এই দিনে পুরো এলাকায় উৎসব বিরাজ করে।
.png)
রসুলপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হারেজ মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। বাড়ির মেয়ের জামাইরা মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়ি আসায় ও মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মেলাটি প্রতি বছর জমে উঠেছে। এটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যাবাহী বড় মেলা।
স্থানীয়দের দাবি, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ মেলা। মেলাকে ঘিরে থাকে নানারকম বিনোদন ব্যবস্থা। এই মেলায় থাকে হরেক রকমের মিষ্টি, আচার, খেলনাসহ নানা জিনিসপত্রের সমাহার। এসব আয়োজনে উৎসবমুখর হয়ে উঠে মেলাপ্রাঙ্গণ। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি শ্বশুরবাড়ির লোকদের খাওয়ান জামাইরা। দীর্ঘদিন ধরে এটি রীতিতে পরিণতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলেও জানান আয়োজক কমিটি।
মেলা কমিটির এক সদস্য বলেন, মেলায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। মেলায় খাবার আইটেম, খেলনাসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও পাওয়া যায়।