ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে পা রেখেই যা বললেন আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ১৪ মে ২০২৪
চট্টগ্রামে পা রেখেই যা বললেন আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন
ছবি: সংগৃহীত

নাবিকদের বহন করা লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মণি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতেই সৃষ্টি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। খুশিতে চোখের নোনা জল মুছছিলেন নাবিকদের স্বজনরা। প্রথমেই মাটিতে পা রাখেন এমভি আব্দুল্লাহর ক্যাপ্টেন আব্দুর রশিদ।

এ সময় তার কাছে নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাব দেন আব্দুর রশিদও।

তিনি বলেন, সেফটি অব লাইফটাকে প্রাধান্য দিয়েছি আমি। তাইতো সোমালিয়ার দস্যুদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে আজ আমরা এখানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা ২৩ নাবিকই পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের সরকার কৌশলগতভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমিও জীবনে প্রথম এমন পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। মনে ভয় ছিল, কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্বাভাবিক রেখেছি। সবাইকে হ্যান্ডেল করে, যেন আমাদের কোনো ক্রুর কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখি।

Advertisement

নৌবাহিনী প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্যাপ্টেন আব্দুর রশিদ বলেন, আমি বলেছিলাম বিদেশি নৌবাহিনী যেন ভায়োলেন্স না করে, যাতে আমাদের নাবিকদের কারো প্রাণ না যায় বা জাহাজের কোনো ক্ষতি যেন না হয়। প্রথমদিন যখন আমরা দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হলাম, তখন সেকেন্ড অফিসার ব্রিজে ছিলেন। আমি নিচে নেমে অ্যালার্ট দিচ্ছিলাম। সবকিছু অতি দ্রুত ঘটছে। দস্যুরা স্পিডবোটে এসে জাহাজে উঠে ব্রিজে চলে আসে। এসময় আমি আর সেকেন্ড অফিসার আমাদের হিডেন রুমে যেতে পারিনি।

লোমহর্ষক সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রশিদ বলেন, সেকেন্ড অফিসার আটক হওয়ার পর আমি গিয়ে দেখি একে-৪৭ তাক করে আছে তার দিকে। আমি যেতেই আমার দিকেও একে-৪৭ তাক করে। আমি হাত তুলে সারেন্ডার করে বললাম, আমরা মুসলিম, আমরা বাংলাদেশি। আমরা রোজাদার বলে চিৎকার তুলি। আমি স্ট্রং ছিলাম। আমরা দুর্বল হয়ে পড়িনি।

মৃত্যুর হুমকি ছিল উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন আব্দুর রশিদ বলেন, এ সময় তারা আমাদের সবাইকে ডাকতে বলে। এরপর আমাদের সবাইকে ব্রিজের মধ্যে সারাদিন সারারাত রেখে দেয়। আমাদের নাবিকদের কেউ কেউ কান্নাকাটিও করছিল। আমার মনে ভয় ছিল, কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্বাভাবিক রেখেছি। সবাইকে হ্যান্ডেল করে, যেন আমাদের কোনো ক্রুর কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখি।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিককে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি কনটেইনার টার্মিনালে নোঙর করে লাইটারেজ জাহাজ এমভি জাহান মণি-৩। তিনটি টাগবোটের সহায়তায় জাহাজটি এনসিটি-১ জেটিতে ভেড়ানো হয়। এরপর জেটির সঙ্গে যুক্ত করা হয় ভ্রাম্যমাণ সিঁড়ি। সোয়া ৪টার দিকে জাহাজ থেকে একে একে নামেন নাবিকরা। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

এর আগে, বেলা ১২টার দিকে নতুন নাবিকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে জাহাজটিতে কুতুবদিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জেটির উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে এমভি আবদুল্লাহ। একইদিন লাইটারেজ জাহাজ এমভি জাহান মণি-৩ নতুন ২৩ নাবিক দল নিয়ে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়ে।

মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন জিম্মি থাকার পর ১৪ এপ্রিল ভোররাতে জাহাজটি জলদস্যু মুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজ থেকে বোটে নেমে যায়। 

মুক্তির পর জাহাজটি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আল হারমিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি। জাহাজটিতে থাকা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা সেখানে খালাস করা হয়। পরবর্তীতে আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চুনা পাথর লোড করা হয়। এসব পণ্য নিয়ে দেশের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!