ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চিকিৎসা খাতে সাফল্য আনবে প্রীতমের ‘কৃত্রিম হাত’

শামীম আহমেদ, বরিশাল
প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ১১ মে ২০২৪
চিকিৎসা খাতে সাফল্য আনবে প্রীতমের ‘কৃত্রিম হাত’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানবদেহ সংযোজনের জন্য কৃত্রিম হাত তৈরি করে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম পাল। তিনি জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ বিজ্ঞান মেলা ও ৮ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে প্রথমস্থান দখলে রেখেছেন। এর আগে, প্রীতম পাল উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলায়ও প্রথমস্থান দখল করেছিলেন। তার এমন আবিষ্কার চিকিৎসা খাতে সাফল্য বয়ে আনবে বলে বিশিষ্টজনরা আশা ব্যক্ত করেছেন।

ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম পাল বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রীতম আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও রাজিহার ইউপি সচিব গৌতম পাল ও গৃহিণী কাজলী পালের বড় সন্তান। প্রীতম গৈলা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী।

ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতম জানান, একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও ক্লিপে দেখতে পান যে, রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে একটি হাত হারিয়েছেন একজন সৈনিক। ঐ সৈনিক একদিন বাড়ি ফিরলেন। বাড়ি ফেরার আগে দরজায় অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী ও সন্তানেরা। কলিংবেল চাপতেই সন্তানেরা দরজা খুলে দেন। বাবা দাঁড়িয়ে রয়েছেন দরজার সামনে। সন্তানেরা অপেক্ষা করছেন বাবা তাদের জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিয়ে আদর করবেন। আবার সন্তানদের ভাবনা বাবা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে একটি হাত হয়তো তার পেছনে রেখেছেন সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটলো না।

Advertisement

হতভাগা বাবা এর কোনোটিই যখন করলেন না; তখন সন্তানেরা দেখতে পেলেন যে তাদের বাবার একটি হাতই নেই। হৃদয় বিদারক দৃশ্যর এমন একটি ভিডিও দেখে মানবদেহ সংযোজনের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন প্রীতম। মানব কল্যাণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাগ্র চিত্তে মনোযোগী হন তিনি। অধ্যবসায়ের কারণে প্রীতমের সেই স্বপ্ন বাস্তবে ডানা মেলেছে।

প্রীতম জানান, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সারাদেশে অনেক মানুষ তাদের হাত হারান। বেঁচে থাকার জন্য বাকি জীবন তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এমন মানুষের জন্যই তার আবিষ্কৃত রোবটিক আর্ম বা কৃত্রিম হাত মানবদেহে সংযোজন করা যেতে পারে। মানবদেহে এই কৃত্রিম হাত সংযোজন করলে ভারী যান্ত্রিক স্থানেও অনায়াসে কাজ করতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই এই হাত দুই থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। হেভিওয়েট হাত হিসেবে এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি।

দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তিরা বিদেশ থেকে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে কৃত্রিম হাত আমদানি করে তার সংযোজন করে আসছেন। তবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী প্রীতমের আবিষ্কৃত কৃত্রিম হাত তৈরিতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

প্রীতমের বাবা ইউপি সচিব গৌতম পাল জানান, তার ছেলের উদ্ভাবন নিয়ে তিনি আনন্দিত। মানব কল্যাণে কাজ করায় ছেলের আর্থিক চাহিদা পূরণ করে আসছেন তিনি। পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহের পাশাপাশি প্রীতম তার আবিষ্কারে আরো সাফল্য পাবে বলেও আশা ব্যক্ত করে তিনি। পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করেন বাবা গৌতম পাল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!