ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সরকারি হাসপাতালে দৃষ্টিনন্দন ভবন-আধুনিক যন্ত্রপাতি, তবু প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটছেন রোগীরা

গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
সরকারি হাসপাতালে দৃষ্টিনন্দন ভবন-আধুনিক যন্ত্রপাতি, তবু প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটছেন রোগীরা
ফ্লোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা

মাদারীপুর জেলাজুড়ে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন ও আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। কিন্তু রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। এ কারণে সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটছেন তারা। ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ইচ্ছেমতো বিল করায় রোগী ও স্বজনদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। তবে জেলা সিভিল সার্জনের দাবি, জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

বাবা আবুল কালাম গাজীকে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন সদর উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা রনি ইসলাম। কিন্তু ভর্তির ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আসন না পেয়ে ফ্লোরে নিচ্ছেন চিকিৎসা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মহিষেরচর এলাকার গৃহবধূ কাজল রেখা। কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও কয়েকটি পরীক্ষা করতে হয়েছে প্রাইভেট ক্লিনিকে। গুনতে হয়েছে হাজার হাজার টাকা।

Advertisement

রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ায় সেবা নিতে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন মিয়ারহাট এলাকার সিরাজ মহাজন। সেখানে নামেমাত্র ভর্তি হয়েছেন। ওষুধ থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সবই করতে হয়েছে প্রাইভেট ক্লিনিকে।

ডায়রিয়া হওয়ায় ছোট্ট নাতনি নূর সাইদাকে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন রেখা বেগম। এখানে সেবা না পেয়ে ছুটছেন প্রাইভেট ক্লিনিকে। চিকিৎসা ফি ও পরীক্ষার নামে দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অথচ সরকারি হাসপাতালে অলস পড়ে থাকে সিটি স্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে, আল্টাসনোগ্রামসহ অধিকাংশ আধুনিক যন্ত্রপাতি। এতে ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা।

দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল ভবনভুক্তভোগী সিরাজ মহাজন বলেন, গরিবের জন্য করা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না। নামেমাত্রই ভর্তি হয়েছি; সেবার মান খুবই খারাপ। ডাক্তার একবার দেখে পরীক্ষা ও ওষুধ লিখে দিয়েছেন। পরে সবকিছুই করতে হয়েছে সরকারি হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা প্রাইভেট ক্লিনিকে। হাজার হাজার টাকা নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে গেলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হন ৩০০-৪০০ রোগী; বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ।

সামাজিক সংগঠন নিরাপদ চিকিৎসা চাই, মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই। সেবার মান খারাপ হওয়ায় রোগীকে নিয়ে স্বজনরা ছোটেন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে। এতে অসহায় গরিব মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা স্বাস্থ্যসেবার মান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহম্মেদ খান বলেন, শুধু ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালই নয়, উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রয়েছে জনবল সংকট। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া কিছু চিকিৎসকের খারাপ আচরণেও অনেক রোগী সরকারি হাসপাতাল রেখে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত দেওয়া হয়েছে। জনবল ঘাটতি পূরণ হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন রোগীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!