এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর দেড় ২টার দিকে সদর উপজেলার গাবখান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামে বারেক হাওলাদারের মেয়ে নাহিদা আক্তার (২৭), জামাতা হাসিবুর রহমান (৩২), তাদের সন্তান তাকিয়া (সাড়ে চার বছর) ও তাহমিদ (৮ মাস), সদ্য বিবাহিত কন্যা নিপা (২২), জামাতা বিমান বাহিনীর সদস্য ইমরান হোসেন (২৬), গাবখানের সেলিম হাওলাদারের ছেলে নজরুল (৩৫), ওস্তাখান গ্রামের মান্নান মাঝির ছেলে শফিকুল মাঝি (৫০), শেখেরহাট নওপাড়ার আব্দুল হাকিমের ছেলে আতিকু রহমান সাদি (১১), কাঠালিয়ার তালগাছিয়ার ইব্রাহিমের মেয়ে নুরজাহান (৭), স্ত্রী তাহমিনা (২৫), রাজাপুরের উত্তর সাউথপুরের হাসিবুর রহমানের স্ত্রী সনিয়া বেগম (৩০), স্বরূপকাঠির রুহুল আমীন ও টোল প্লাজার সামনের প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক শহিদুল ইসলাম।
.png)
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ২টার দিকে রাজাপুরের দিক থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক গাবখান ব্রিজ থেকে নামার সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় টোল প্লাজায় অবস্থানরত একটি প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে খাদে পড়ে ট্রাকটি। ট্রাকের ক্ষতি কম হলেও প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান। এছাড়া এ ঘটনায় ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট হাট ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ কামাল হোসেন বলেন, ব্যাটারিচালিত চারটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকারযোগে প্রায় ২৫ জন নিয়ে গাবখান ইউনিয়নের ওস্তাখাল গ্রামে বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। আমার শ্যালিকার বৌভাতের আয়োজন ছিলো। পথে গাবখান টোলে গাড়িগুলো টোল দিচ্ছিলো। এরই মধ্যে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক পেছন থেকে আমাদের গাড়িগুলো, পথচারী ও টোলকর্মীদের চাপা দেয়।
শেখেরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আতফি আহম্মেদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ কামাল হোসেনের শ্যালিকার বৌভাতে যাচ্ছিলো। কামাল হোসেন আমাকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১০ জন নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্মদিবসের মধ্যে কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ১৪ জন নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।